এবারের দুর্গাপূজায় পশ্চিমবঙ্গের মানুষের উৎসবের পাতে বাংলাদেশের পদ্মার ইলিশ থাকার সম্ভাবনা নেই। মা ইলিশের প্রজনন রক্ষায় বাংলাদেশের সরকারের ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা দুর্গাপূজার সময়ের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
মাছের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় প্রতি বছর অক্টোবর মাসে বাংলাদেশের নদনদীতে মাছ ধরা, সংরক্ষণ ও বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। চলতি বছর ৮ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া এ নিষেধাজ্ঞা চলবে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত।
পশ্চিমবঙ্গ মৎস্য আমদানিকারক সমিতির সভাপতি অতুলচন্দ্র দাস জানিয়েছেন, এবার কলকাতার বাজারে বাংলাদেশ থেকে পদ্মার ইলিশের কোনো চালান আসবে না। ফলে দুর্গাপূজার দিনগুলোতে ইলিশপ্রেমীরা বাংলাদেশের এই মাছের স্বাদ থেকে বঞ্চিত হবেন।
পুজোর উপহারে পদ্মার ইলিশ যাচ্ছে না পশ্চিমবঙ্গে, হতাশ ব্যবসায়ীরা
সাধারণত উৎসবের মৌসুমে বাংলাদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টন ইলিশ রপ্তানি করা হয়। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারতে ইলিশ রপ্তানির পরিমাণ কমে যায়। ওই বছর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ভারতে ২ হাজার ৪০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছিল। গত বছর পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৩ হাজার টন ইলিশের চালান গেলেও প্রকৃত আমদানির পরিমাণ অন্তত ২০ শতাংশ কম ছিল বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে।
বাংলাদেশে ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়াকেও রপ্তানি হ্রাসের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ থেকে ২০২৫ অর্থবছরে দেশে ইলিশের উৎপাদন ছিল ৫ লাখ টন, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৫ দশমিক ৫ শতাংশ কম।
চলতি বছরের জুলাইয়ে বাংলাদেশ ভারতে ইলিশ রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। এর পর ভারত গুজরাটের ইলিশ বাংলাদেশে রপ্তানি শুরু করলেও মানের সমস্যার কথা উল্লেখ করে গত মাসে সেই মাছ আমদানিও বন্ধ করে দেয় বাংলাদেশ।
কলকাতা ও আশপাশের এলাকার বহু পরিবার দুর্গাপূজায় পদ্মার ইলিশ কিনে থাকে। সেখানে ১ থেকে দেড় কেজি ওজনের ভালো মানের পদ্মার ইলিশের দাম সাধারণত প্রতি কেজি প্রায় ২ হাজার টাকা। গত বছর দাম ছিল কেজিপ্রতি ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, অবৈধ পথে কিছু ইলিশ পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করতে পারে। তবে এ ধরনের পাচার ঠেকাতে গত মাসে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের সহযোগিতা চেয়েছিল।
কলকাতার এক ব্যবসায়ীর মতে, অবৈধ পথে ইলিশ আসা বন্ধ হলে এবার পদ্মার ইলিশ পাওয়া কঠিন হবে। তবে বিকল্প হিসেবে দিঘা ও ডায়মন্ড হারবারের মতো এলাকার স্থানীয় ইলিশ বাজারে পাওয়া যেতে পারে।
এদিকে, এ বছর বঙ্গোপসাগরে ইলিশ আহরণও প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। পশ্চিমবঙ্গের বাজারে চাহিদা মেটাতে প্রতি বছর মিয়ানমার থেকে প্রায় ৩ হাজার টন এবং গুজরাটের ভারুচ থেকে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টন ইলিশ সংগ্রহ করা হয়।