নিজের শিক্ষক ও প্রখ্যাত আলেম, বাংলাদেশের জাতীয় মসজিদের খতীব মাওলানা আব্দুল মালেককে নিয়ে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। বুধবার (৭ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি মাওলানা আব্দুল মালেকের ইলমী অবদান, তাঁর সঙ্গে নিজের শিক্ষাগত সম্পর্ক এবং বিভিন্ন বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।
মামুনুল হক বলেন, ফক্বীহ মাওলানা আব্দুল মালেক শুধু বাংলাদেশের একজন শীর্ষ আলেম নন, তাঁর দৃষ্টিতে তিনি একজন ক্ষণজন্মা ও অতুলনীয় ইলমী ব্যক্তিত্ব। সমকালে এমন গভীর ও বিস্তৃত ইলমের অধিকারী ব্যক্তি খুব কমই দেখা যায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি জানান, বাংলাদেশে তিন দশকের বেশি সময় ধরে মাওলানা আব্দুল মালেক ইলমী খেদমত করে আসছেন। উচ্চতর গবেষণামূলক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার মাধ্যমে তিনি দেশের ইলমচর্চাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন বলেও উল্লেখ করেন।
নিজের সঙ্গে মাওলানা আব্দুল মালেকের সম্পর্ক তুলে ধরে মামুনুল হক বলেন, ‘মাওলানা আব্দুল মালেক হাফিজাহুল্লাহ আমার খাস উস্তাদ।’ ২০০২-০৩ সালের দিকে মারকাযুদ দাওয়াহ, মোহাম্মদপুরে প্রায় দেড় বছর তাঁর কাছ থেকে নিয়মিত শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পান বলেও জানান তিনি।
ওই সময়ে মাওলানা জাকারিয়া আবদুল্লাহ ও মাওলানা আনিসুর রহমানসহ অনেকে মারকাযুদ দাওয়াহর উলূমুল হাদিস বিভাগে পড়াশোনা করতেন। মামুনুল হকও মাওলানা আব্দুল মালেকের অনুমতি নিয়ে নিয়মিত দরসে অংশ নিতেন এবং মুতালাআর জন্য বিশেষ নির্দেশনা গ্রহণ করতেন।
তিনি বলেন, ওই সময়ে মুকাদ্দিমায়ে ইবনুস সালাহসহ উলূমুল হাদিস ও উলূমুল ফিকহের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কিতাব মাওলানা আব্দুল মালেকের কাছে পড়েছেন। এসব শিক্ষাকে নিজের জ্ঞান ও যোগ্যতার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
মামুনুল হক আরও বলেন, ‘মাওলানা আব্দুল মালেক সাহেব শুধু আমার শিক্ষকই নন, বরং আমার ছিটেফোঁটা যতটুকু যোগ্যতা বা জ্ঞান অর্জনের সুযোগ হয়েছে, তার অন্যতম প্রধান ভিত এবং স্তম্ভ হলেন মাওলানা আব্দুল মালেক।’
তিনি মাওলানা আব্দুল মালেককে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন, ইলমের গভীরে ডুবন্ত, কিতাবের পাতায় বিচরণকারী, দুনিয়াবিমুখ, নির্মোহ ও নির্লোভ ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।
তবে রাষ্ট্রব্যবস্থা, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি, কূটনীতি এবং চলমান বিশ্বব্যবস্থার মতো বিষয়ে তিনি মাওলানা আব্দুল মালেকের অনুসরণ করেন না বলেও স্পষ্ট করেন। এসব ক্ষেত্রে শিক্ষকতুল্য অভিভাবক মাওলানা লিয়াকত আলী সাহেবের ওপর বেশি আস্থা রাখেন বলে জানান তিনি।
নিজের ওপর মাওলানা আব্দুল মালেকের অধিকার প্রসঙ্গে মামুনুল হক হযরত আলী (রা.)-এর নামে প্রচলিত একটি উক্তি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, একটি অক্ষরের জ্ঞানের যদি এতটা হক থাকে, তাহলে তাঁর ব্যক্তিজীবনে মাওলানা আব্দুল মালেকের হক ও অধিকার আরও অনেক বেশি।
এ কারণে নিজের ব্যাপারে মাওলানা আব্দুল মালেক কঠোর কোনো মন্তব্য করলেও তাঁর সে অধিকার রয়েছে বলে মনে করেন মামুনুল হক। তবে তাঁর ব্যাপারে মাওলানা আব্দুল মালেকের কোনো মন্তব্যের পর অন্য কারও নেতিবাচক মন্তব্যকে তিনি শিষ্টাচারবহির্ভূত বলে মনে করেন।
একইভাবে মাওলানা আব্দুল মালেকের ইলম, আমল, ইখলাস, দুনিয়াবিমুখতা ও নির্মোহতার মতো গুণাবলি নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করাকেও তিনি সীমালঙ্ঘন হিসেবে দেখেন।
স্ট্যাটাসের শেষাংশে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ সীমারেখা মেনে বিষয়টি অনুধাবনের আহ্বান জানান বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির।