স্পেনের সেউতায় নতুন আশ্রয়কেন্দ্রে জায়গা না থাকায় ২ হাজারের বেশি অভিবাসীকে আবার সমুদ্রসৈকতে ফিরতে হয়েছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে তারা সৈকত ও রাস্তায় অবস্থান করছিলেন।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে স্পেনের সিভিল গার্ড ও জাতীয় পুলিশের পাহারায় হাজারো অভিবাসীকে ট্রাম্পোলিন ও বেনিতেজ সৈকত থেকে নতুন অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়। কেন্দ্রটিতে ১ হাজার ৭০০ জনের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।
তবে সৈকত থেকে ৪ হাজারের বেশি মানুষ সেখানে যাওয়ায় দ্রুতই জায়গা শেষ হয়ে যায়। ফলে অনেককে আবার সৈকতে ফিরতে হয়। স্থানীয় সরকারি সূত্র জানিয়েছে, সব মিলিয়ে সেউতার রাস্তায় এখনো প্রায় ৩ হাজার অভিবাসী রয়েছেন।
জায়গা দখল নিয়ে শুক্রবার সেখানে উত্তেজনা তৈরি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়। একপর্যায়ে পুলিশ আকাশে সতর্কতামূলক গুলি ছোড়ে। তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
অভিবাসীদের আবার সৈকতে ফিরে যাওয়ায় সেখানে পরিচ্ছন্নতার যে কাজ শুরু করার পরিকল্পনা ছিল, সেটিও স্থগিত করা হয়েছে। ফলে ট্রাম্পোলিন সৈকতে এখনো অস্থায়ী তাঁবু ও ছোট ছোট ঘর পড়ে আছে।
জুলাইয়ের শেষ দিকে সেউতায় অভিবাসী সংকট শুরু হয়। ওই সময় মরক্কো থেকে ৭০ হাজারের বেশি মানুষ স্পেনের এই অঞ্চলে প্রবেশ করেন।
সেউতার স্বায়ত্তশাসিত সরকারের সদস্য কিসি চন্দিরামানি বন্দর এলাকায় অভিবাসীদের স্থানান্তরের ঘটনাকে ‘বিশৃঙ্খল’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, শহর প্রশাসন ও বন্দর কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে আগে থেকে জানানো হয়নি।
তিনি আরও বলেন, অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া দ্রুত করতে হবে। তা না হলে সেউতা উত্তর আফ্রিকার একটি বড় অস্থায়ী অভিবাসী আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
চন্দিরামানি জানান, প্রতিদিন প্রায় ১০০টি অভিবাসী মামলা প্রক্রিয়া করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত জনবল ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাওয়া গেলে এই কাজ ১৫ দিনের মধ্যে শেষ করা সম্ভব। বর্তমান গতি অব্যাহত থাকলে সংকট আরও দীর্ঘ হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
সূত্র : ইউরোনিউজ