১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আন্তর্জাতিক
দাবি প্রত্যাখ্যান করল হুতি

মক্কার দিকে ধেয়ে আসা ‘হুথি বাহিনীর ড্রোন’ ধ্বংস করল সৌদি আরব

মক্কার দিকে ধেয়ে আসা ‘হুথি বাহিনীর ড্রোন’ ধ্বংস করল সৌদি আরব

ইসলামের পবিত্রতম শহর মক্কার দিকে অগ্রসর হওয়া ইয়েমেনের হুথি বাহিনীর একটি ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করেছে সৌদি আরব। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মক্কার আকাশসীমার দিকে এগিয়ে যাওয়ার আগেই ড্রোনটি শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রয়্যাল সৌদি এয়ার ডিফেন্স ফোর্সেস শত্রুভাবাপন্ন ড্রোনটি সংরক্ষিত আকাশসীমায় ঢোকার আগেই প্রতিহত করে। উপাসক ও সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করার চেষ্টার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তুর্কি আল-মালকি সতর্ক করেন, দুই পবিত্র মসজিদ এবং তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তা রক্ষা করা একটি ‘রেড লাইন’ বা অলঙ্ঘনীয় সীমা।

আল-মালিকি দাবি করেন, মক্কাকে লক্ষ্য করে হুতিদের এটি দ্বিতীয়বারের মতো হামলার চেষ্টা। এর আগে ২০১৭ সালের ২৭ জুলাই মক্কার দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।

ঘটনার পর মঙ্গলবার পবিত্র শহর মক্কায় নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়, যা ২০১৭ সালের পর প্রথম। তবে কয়েক মিনিটের মধ্যেই এই সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়। একই সময়ে তায়েফ এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর জেদ্দাতেও অনুরূপ সতর্কতা সক্রিয় করা হয়েছিল।

অন্যদিকে ইয়েমেনের সাবা বার্তা সংস্থায় দেওয়া এক বিবৃতিতে হুথি সামরিক সূত্র মক্কা বা অন্য কোনো পবিত্র স্থানকে লক্ষ্যবস্তু করার দাবি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা কোনো ধরনের হুমকির কথা অস্বীকার করে একে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার বলে অভিহিত করেছে।

২০১৫ সালে হুথিরা সানা দখল করার পর সৌদি আরবের সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে শুরু হওয়া সংঘাতটি এই ঘটনার ফলে নতুন করে চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ২০২২ সালের এপ্রিলে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি সাময়িক শান্তি আনলেও গত জুলাইয়ে লোহিত সাগরে অবরোধ আরোপ এবং উপকূলীয় এলাকা দখলের পর থেকে হুথিরা আবার নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা জোরদার করেছে।

পবিত্র কাবা শরিফের অবস্থান হওয়ায় বিশ্বজুড়ে ২০০ কোটি মুসলিমের কাছে অত্যন্ত সংবেদনশীল এই মক্কা শহর। গত মে মাসে ১৭ লাখের বেশি এবং গত বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ১১.৭ মিলিয়নের বেশি পুণ্যার্থী সেখানে উমরাহ পালন করেছেন, যার ফলে সাম্প্রতিক সংঘাত আগামী দিনের তীর্থযাত্রাকে প্রভাবিত করবে কি না তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা

Home R3