আফগান সরকারকে মেনে নেওয়া প্রয়োজন: রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আফগানিস্তানের বর্তমান সরকারকে বাস্তবতা হিসেবে মেনে নেওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। তিনি বলেন, ক্রমবর্ধমানসংখ্যক দেশও এখন এ অবস্থানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

মধ্য এশিয়া ও আফগানিস্তানের নিরাপত্তাবিষয়ক এক বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। এতে যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি সংস্থা (সিএসটিও), স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহের কমনওয়েলথ (সিআইএস) এবং সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

ল্যাভরভ বলেন, কাবুলের কর্তৃপক্ষের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থন বাড়ানো এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্যোগ জোরদারে কাজ করছে মস্কো। একই সঙ্গে যুদ্ধ ও মাদকমুক্ত, স্বাধীন, ঐক্যবদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ আফগানিস্তান প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর পাশাপাশি কাবুলের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়াতে হবে।

বৈঠকে তাজিকিস্তান ও কাজাখস্তানের প্রতিনিধিরাও আফগানিস্তানে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। দেশটির অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানান তাঁরা।

রাশিয়ায় নিযুক্ত কাজাখস্তানের রাষ্ট্রদূত দাউরেন আবায়েভ বলেন, তাঁর দেশ এমন একটি শান্তিপূর্ণ, ঐক্যবদ্ধ ও স্থিতিশীল আফগানিস্তান চায়, যে দেশ প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখবে এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেবে।

তাজিকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কৌশলগত গবেষণা বিভাগের প্রধান মির্জা শরিফ জালোলভ বলেন, আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের গঠনমূলক উদ্যোগকে তাঁর দেশ সমর্থন করে।

অন্যদিকে, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার উপমহাসচিব আহমাদ সাঈদ মুরাদজাদা বলেন, আফগানিস্তানের বিভিন্ন জাতিগত ও রাজনৈতিক গোষ্ঠীর অংশগ্রহণে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা দেশটিতে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ পথ।

স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহের কমনওয়েলথের সন্ত্রাসবিরোধী কেন্দ্রের প্রধান ইয়েভগেনি সিসোয়েভ বলেন, ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর আফগানিস্তানের কয়েকটি ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে দেশটির পরিস্থিতি এখনো জটিল এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরস্পরবিরোধী বাস্তবতা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন সিসোয়েভ।

বৈঠকে রাশিয়ায় নিযুক্ত ইমারাতে ইসলামিয়ার রাষ্ট্রদূত গুল হাসান হাসান দাবি করেন, আফগানিস্তানে নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে এবং দেশটির ভূখণ্ড অন্য দেশের জন্য হুমকি নয়। একই সঙ্গে তিনি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা, আফগান সরকারের সশস্ত্র বিরোধীদের আশ্রয় দেওয়া এবং আইএসআইএসের কার্যক্রম ও মাদক পাচারকে উৎসাহিত করার অভিযোগ করেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রতিবেদনে পাকিস্তানের কোনো বক্তব্য উল্লেখ করা হয়নি।

সম্প্রতি মস্কো ফরম্যাটের আওতায় আফগানিস্তান নিয়ে আরেকটি বৈঠকের আয়োজন করে রাশিয়া। এতে দেশটির রাজনৈতিক, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং স্থিতিশীলতা জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।