ভারতে গত ছয় মাসে ৫ হাজার ৩৫২টি নতুন দীনি মক্তব প্রতিষ্ঠা করেছে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ। একই সময়ে ১৪ হাজার ৭০৮টি স্থানে কুরআন ও হাদিসের পাঠচক্র চালু করেছে সংগঠনটি। এ ছাড়া সামাজিক ও শিক্ষাগত উন্নয়নে ৪৮৪টি গ্রাম নির্বাচন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজস্থানের জয়সালমির জেলার পোখরানে দারুল উলুম ইসলামিয়ায় অনুষ্ঠিত সংগঠনটির নবম কেন্দ্রীয় ষান্মাসিক পরামর্শ সভায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। তিন দিনব্যাপী এ সভায় ভারতের বিভিন্ন প্রদেশের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক দায়িত্বশীলরা অংশ নেন।
সভায় এপ্রিল থেকে অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত ছয় মাসের সাংগঠনিক, শিক্ষামূলক ও সামাজিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি আগামী ছয় মাসের জন্য বিভিন্ন বিভাগের নতুন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন মক্তব প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি আগামী ছয় মাসে আরও ৫ হাজার ৩৩২টি মক্তব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সংগঠনটির অধীনে ৬৩ হাজারের বেশি মক্তব পরিচালিত হচ্ছে। গত ছয় মাসে ৫ হাজার ৮৬০টি স্থানে কুরআনের পাঠ এবং ৮ হাজার ৮৪৮টি স্থানে হাদিসের পাঠ চালু করা হয়েছে।
এ ছাড়া সংগঠনটির ‘রফিক’ বিভাগে ৯ হাজার ৪০০ তরুণ যুক্ত হয়েছেন। আগামী ছয় মাসে আরও ৯ হাজার ৭৫৩ জনকে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সামাজিক সংস্কারমূলক ৮ হাজার ৩৮৩টি সভা আয়োজনের লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করা হয়েছে।
সভায় সংগঠনটির সভাপতি মাওলানা মাহমুদ আসআদ মাদানি দায়িত্বশীলদের উম্মাহর সেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত পরিচিতি, পদ-পদবি ও খ্যাতির চেয়ে দ্বীনি ও সামাজিক দায়িত্ব পালনে গুরুত্ব দিতে হবে। নতুন প্রজন্মকে সামনে এগিয়ে নিতে তরুণদের কাজের সুযোগ দেওয়া এবং দায়িত্বশীল হিসেবে গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, গত ছয় মাসে ধর্মীয় ও সামাজিক দিকনির্দেশনার কেন্দ্র হিসেবে ১ হাজার ৮০৬টি আদর্শ মসজিদ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। আগামী ছয় মাসে এ সংখ্যা ২ হাজার ৫৫৬-তে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সাম্প্রদায়িক সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠায় ৩৫৬টি কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে আরও ১ হাজার ৯১টি কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সামাজিক ও শিক্ষাগত উন্নয়নের জন্য নির্বাচিত ৪৮৪টি গ্রামের পাশাপাশি আগামী ছয় মাসে আরও ৭৪৮টি গ্রামকে কার্যক্রমের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া সাংগঠনিক কর্মীদের দক্ষতা বাড়াতে গত ছয় মাসে ১১৫টি প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ছয় মাসে আরও ৩৮৬টি কর্মশালা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
সভায় মাওলানা মাহমুদ আসআদ মাদানি পূর্বসূরি আলেমদের ত্যাগ ও সেবার মানসিকতা নিজেদের জীবনে ধারণ করে সাংগঠনিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, উম্মাহর প্রয়োজনের তুলনায় দায়িত্ব অনেক বিস্তৃত। তাই আরও আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও দৃঢ়তার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
সংগঠনটির সহসভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ সালমান বিজনৌরি বলেন, ব্যক্তিগত খ্যাতি ও পরিচিতির পরিবর্তে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে কাজ করতে হবে। কাজ ছোট হোক বা বড়, আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সম্পন্ন করাই গুরুত্বপূর্ণ।
সভায় জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের উত্তর প্রদেশ শাখার সভাপতি মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ আফফান মনসুরপুরি দ্বীনি শিক্ষা বোর্ড ও মক্তব কার্যক্রমের বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন। মৌলিক দ্বীনি শিক্ষার প্রসার, নতুন মক্তব প্রতিষ্ঠা, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষামূলক কার্যক্রমের তদারকির বিষয়ে আলোচনা হয়।
তিন দিনব্যাপী এ পরামর্শ সভায় প্রতিটি ইউনিটে সামাজিক সংস্কার কমিটি গঠন, আদর্শ জেলাগুলোতে পারিবারিক পরামর্শকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা এবং মানসম্মত মসজিদ গড়ে তোলার প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়। সভায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক পর্যায়ের বিভিন্ন দায়িত্বশীল অংশ নেন।