৩০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আন্তর্জাতিক

ভারতের ছাত্র আন্দোলন : ৪ বছর ধরে রাশিয়ায় থেকেও পুলিশের মামলায় বিহারের এক মুসলিম যুবকের নাম

ভারতের ছাত্র আন্দোলন : ৪ বছর ধরে রাশিয়ায় থেকেও পুলিশের মামলায় বিহারের এক মুসলিম যুবকের নাম

ভারতে নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদ ঘিরে হওয়া ছাত্র আন্দোলনের পর ব্যাপক ধরপাকড় ও মামলা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এবার বিহারের কিশনগঞ্জের এক মুসলিম যুবক মুহাম্মাদ সাদাকাত অভিযোগ করেছেন, গত চার মাস ধরে রাশিয়ায় অবস্থান করলেও আন্দোলনের মামলায় তার নাম আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে পুলিশ। ঘটনাটি পুলিশের তদন্ত ও অভিযুক্তদের তালিকা তৈরির নির্ভুলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

ভারতের বিহারের কিশনগঞ্জের বাসিন্দা মুহাম্মাদ সাদাকাত দাবি করেছেন, নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে হওয়া বিক্ষোভের মামলায় ভুল করে তার নাম যুক্ত করা হয়েছে। অথচ তিনি গত চার মাস ধরে রাশিয়ায় বসবাস করছেন।

বুধবার (২৯ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম মুসলিম মিরর-সহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

এক সাংবাদিকের এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় সাদাকাত প্রশাসনের কাছে তার নাম মামলা থেকে বাদ দেওয়ার আবেদন জানান। ভিডিওতে বিদেশের একটি স্থান থেকে হিন্দিতে তিনি বলেন, “আমি গত চার মাস ধরে রাশিয়ায় আছি। ২৪ জুলাই নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে যারা আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল, তাদের তালিকায় আমার নামও রয়েছে। আমি বহাদুরগঞ্জ প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করছি, আমার নামটি বাদ দেওয়া হোক। আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকব।”

সাদাকাতের দাবি, বিক্ষোভের সময় তিনি বিহারেই ছিলেন না।

এদিকে, নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে পুলিশ কঠোর অভিযান চালায়। ২৫ জুলাই বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলোর ডাকা বিহার বন্ধ কর্মসূচি চলাকালে ৬৯৪ জনকে আটক করা হয়।

পরে ৩৩৯ জন অপ্রাপ্তবয়স্ককে ছেড়ে দেওয়া হলেও, বাকি ৩৫৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয় এবং তাদের বিচারের মুখোমুখি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তবে পরে বিহার সরকার ঘোষণা দেয়, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহার করা হবে এবং আটক ব্যক্তিদের মুক্তি দেওয়া হবে।

এই সিদ্ধান্ত আসে, যখন দিল্লির যন্তর মন্তরে অনুষ্ঠিত সংশ্লিষ্ট আন্দোলনের অন্যতম নেতা ও এআইএসএ সভাপতি নেহা বোরা বিহারের পুলিশ মহাপরিচালক (ডিজিপি) বিনয় কুমারের কাছে মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেপ্তারদের মুক্তির দাবিতে একটি স্মারকলিপি দেন।

মুহাম্মাদ সাদাকাতের এই অভিযোগের পর প্রশ্ন উঠেছে, আন্দোলনের ঘটনায় অভিযুক্তদের তালিকা তৈরিতে ভুল হয়েছে কি না।

সূত্র : মুসলিম মিরর

Home R3