বিবিধ
সম্পাদকীয়

প্রবাসী শ্রমিক থেকে উদ্যোক্তা: বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশিদের অর্থনৈতিক পরিচয়

প্রবাসী শ্রমিক থেকে উদ্যোক্তা: বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশিদের অর্থনৈতিক পরিচয়

আবদুল আহাদ সালমান


একসময় বিদেশে পাড়ি জমানো বাংলাদেশির প্রধান পরিচয় ছিল শ্রমিক। কেউ নির্মাণশ্রমিক, কেউ কারখানার কর্মী, কেউ রেস্টুরেন্ট বা পরিচ্ছন্নতাকর্মী। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উপার্জন করে দেশে পরিবারের জন্য টাকা পাঠানোই ছিল তার প্রধান লক্ষ্য। প্রবাসজীবনের সাফল্যও যেন মাপা হতো মাসে কত টাকা দেশে পাঠানো যায়, সেই হিসাব দিয়ে।

কিন্তু সময় বদলেছে। বদলাচ্ছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অর্থনৈতিক পরিচয়ও।

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এখন বাংলাদেশিদের মালিকানাধীন রেস্টুরেন্ট, গ্রোসারি, ট্রাভেল এজেন্সি, পোশাকের দোকান, রিয়েল এস্টেট ব্যবসা, আইটি প্রতিষ্ঠান, আমদানি-রপ্তানি প্রতিষ্ঠান, কনস্ট্রাকশন কোম্পানি, পরিবহন ব্যবসা এবং বিভিন্ন সেবা খাতের প্রতিষ্ঠান দেখা যায়। অনেকেই চাকরি থেকে ব্যবসায় এসেছেন। কেউ ছোট দোকান দিয়ে শুরু করে প্রতিষ্ঠান গড়েছেন, কেউ আবার একাধিক ব্যবসা পরিচালনা করছেন।

এটি শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়। এটি বাংলাদেশি প্রবাসীদের অর্থনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।

শ্রমিকের হাত থেকে উদ্যোক্তার হাতে :

বিদেশে একজন বাংলাদেশি যখন চাকরি করেন, তখন তিনি নিজের শ্রম বিক্রি করে আয় করেন। কিন্তু যখন তিনি একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করেন, তখন শুধু নিজের কর্মসংস্থান তৈরি করেন না, অন্যদেরও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেন।

ধরা যাক, একটি বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট। সেখানে মালিকের পাশাপাশি কয়েকজন বাংলাদেশি, ভারতীয়, পাকিস্তানি কিংবা স্থানীয় নাগরিক কাজ করছেন। একটি গ্রোসারি দোকান স্থানীয় সরবরাহকারী, পরিবহনকারী ও কর্মীদের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক তৈরি করছে। একটি ট্রাভেল এজেন্সি বিমান সংস্থা, হোটেল, ট্যুর অপারেটর এবং বিভিন্ন সেবা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।

অর্থাৎ একজন প্রবাসী উদ্যোক্তার অর্থনৈতিক প্রভাব তার নিজের ব্যবসার সীমানার চেয়েও বড়।

এই পরিবর্তনকে আমাদের নতুন করে দেখতে হবে।

কারণ প্রবাসী বাংলাদেশি শুধু রেমিট্যান্স পাঠাবেন, এমন ধারণা এখন আর যথেষ্ট নয়। তিনি বিনিয়োগকারী হতে পারেন, উদ্যোক্তা হতে পারেন, আমদানিকারক হতে পারেন, রপ্তানিকারক হতে পারেন এবং দুই দেশের মধ্যে ব্যবসায়িক সেতুবন্ধন তৈরি করতে পারেন।

ইউরোপে ছোট ব্যবসাই বড় সম্ভাবনার শুরু :

ইউরোপে বাংলাদেশিদের ব্যবসার বড় একটি অংশ এখনো ছোট ও মাঝারি পর্যায়ের। রেস্টুরেন্ট, গ্রোসারি, ট্রাভেল, ট্যাক্সি, কনস্ট্রাকশন, ক্লিনিং, পোশাক, হোলসেল, আইটি ও বিভিন্ন পেশাগত সেবা এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য।

কিন্তু ছোট ব্যবসাকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই।

একটি ছোট গ্রোসারি ভবিষ্যতে খাদ্য আমদানির ব্যবসায় যেতে পারে। একটি রেস্টুরেন্ট বাংলাদেশি খাদ্যপণ্যের বাজার তৈরি করতে পারে। একটি পোশাকের দোকান সরাসরি বাংলাদেশের তৈরি পোশাক আমদানি করতে পারে। একটি আইটি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনবল নিয়ে ইউরোপের বাজারে সেবা দিতে পারে।

এভাবেই ছোট ব্যবসা একসময় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অংশ হয়ে উঠতে পারে।

বাংলাদেশের সঙ্গে পর্তুগালের বাণিজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রেও সম্ভাবনার জায়গা রয়েছে। লিসবনে বাংলাদেশ দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, দুই দেশের বাণিজ্যে বাংলাদেশের রপ্তানি দীর্ঘদিন ধরে আমদানির তুলনায় বেশি। তৈরি পোশাক, নিটওয়্যার, হোম টেক্সটাইল, পাটজাত পণ্য, চামড়া, হস্তশিল্প, সিরামিক, খাদ্যপণ্য ও সফটওয়্যারসহ বিভিন্ন পণ্য পর্তুগালে রপ্তানি হচ্ছে। দূতাবাসটি আইসিটি, চামড়া, আতিথেয়তা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ আরও কিছু খাতে সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেছে।

প্রশ্ন হচ্ছে, এই বাণিজ্যিক সম্ভাবনার কতটুকু অংশ বাংলাদেশি প্রবাসী উদ্যোক্তারা কাজে লাগাতে পারছেন?

সমস্যার জায়গাটিও আমাদের দেখতে হবে :

প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার পথে সবচেয়ে বড় বাধাগুলোর একটি হলো তথ্যের অভাব।

বাংলাদেশ থেকে একটি পণ্য ইউরোপে আনতে হলে কী ধরনের অনুমোদন প্রয়োজন, কোন মানদণ্ড পূরণ করতে হবে, কীভাবে কাস্টমস ও ভ্যাট ব্যবস্থা পরিচালিত হয়, কোন পণ্যের বাজার রয়েছে, কোথায় পাইকারি ক্রেতা পাওয়া যাবে, কীভাবে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট করতে হবে, কীভাবে চুক্তি করতে হবে, এসব বিষয়ে অনেক উদ্যোক্তার পর্যাপ্ত প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা থাকে না।

অন্যদিকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে চাইলেও প্রবাসীদের অনেক সময় জমি, কোম্পানি নিবন্ধন, কর, ব্যাংকিং, অংশীদারিত্ব, প্রকল্প যাচাই এবং সরকারি অনুমোদনের বিভিন্ন ধাপ নিয়ে অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হতে হয়।

প্রবাসী উদ্যোক্তা ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত থাকলেও তার প্রয়োজন একটি নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা।

দূতাবাস কি শুধু কনস্যুলার সেবা দেবে?

বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ নাগরিকসেবা। কিন্তু পরিবর্তিত অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বাণিজ্যিক কূটনীতির গুরুত্বও ক্রমেই বাড়ছে।

দূতাবাস ও বাণিজ্যিক উইংগুলোকে প্রবাসী উদ্যোক্তা, বাংলাদেশি রপ্তানিকারক এবং বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে সংযোগ তৈরিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করা যেতে পারে।

প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ইউরোপীয় শহরে বাংলাদেশি ব্যবসার একটি নির্ভরযোগ্য ডাটাবেস তৈরি করা যেতে পারে। কোন বাংলাদেশি কোন খাতে ব্যবসা করছেন, বাংলাদেশ থেকে কী আমদানি করতে চান, ইউরোপের কোন কোম্পানি বাংলাদেশি পণ্য কিনতে আগ্রহী, এসব তথ্য একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে রাখা যেতে পারে।

একই সঙ্গে দূতাবাসের উদ্যোগে নিয়মিত Business Networking, B2B Meeting, Trade Fair এবং Investment Forum আয়োজন করা যেতে পারে।

এর মাধ্যমে একজন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী শুধু আরেকজন বাংলাদেশির সঙ্গে নয়, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ইউরোপীয় কোম্পানির সঙ্গেও সম্পর্ক তৈরি করতে পারবেন।

প্রবাসী উদ্যোক্তাদের জন্য আলাদা সহায়তা প্রয়োজন :

প্রবাসী কল্যাণ নীতিতে এতদিন মূল গুরুত্ব ছিল নিরাপদ অভিবাসন, কর্মসংস্থান, শ্রমিকের অধিকার এবং কল্যাণে। এগুলো অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এখন প্রবাসী অর্থনীতির পরবর্তী ধাপ নিয়ে ভাবার সময় এসেছে।

প্রবাসীদের মধ্যে যারা ব্যবসা করতে চান, তাদের জন্য একটি বিশেষ Diaspora Entrepreneurship Support Programme চালু করা যেতে পারে।

এর আওতায় যা থাকতে পারে:

প্রথমত, বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য এক জানালা বা One-Stop Diaspora Investment Desk।

দ্বিতীয়ত, প্রবাসী উদ্যোক্তাদের জন্য প্রকল্প যাচাই ও আইনি পরামর্শ।

তৃতীয়ত, ব্যাংকিং ও বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত সহজ নির্দেশনা।

চতুর্থত, ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য প্রবেশের জন্য মান, সার্টিফিকেশন ও আমদানি বিধি সম্পর্কে তথ্য সহায়তা।

পঞ্চমত, তরুণ প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ ও বাংলাদেশি স্টার্টআপের সঙ্গে সংযোগ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান ব্যবস্থায় অনিবাসী বিনিয়োগকারীদের জন্য বিভিন্ন বিনিয়োগ ও বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত সুবিধা রয়েছে। অনিবাসী বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে সরাসরি বিনিয়োগ করতে পারেন এবং নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে মুনাফা ও লভ্যাংশ বিদেশে নেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।

তবে বাস্তবে একজন প্রবাসী উদ্যোক্তার কাছে শুধু নীতিমালা থাকলেই হবে না; তাকে বুঝিয়ে দেওয়ার মতো একটি কার্যকর সেবা কাঠামোও প্রয়োজন।

প্রবাসী বিনিয়োগকে শুধু জমি-ফ্ল্যাটে আটকে রাখা যাবে না :

বাংলাদেশে প্রবাসীদের বিনিয়োগ বলতেই অনেক সময় জমি, ফ্ল্যাট কিংবা বাড়ির কথা মনে করা হয়। এগুলো গুরুত্বপূর্ণ হলেও বিনিয়োগের পরিধি আরও বড় হওয়া উচিত।

প্রবাসী বাংলাদেশিরা কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, পোশাক, চামড়া, পর্যটন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইটি, লজিস্টিকস, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং উৎপাদনশীল শিল্পে বিনিয়োগ করতে পারেন।

বিশেষ করে ইউরোপে বসবাসকারী দ্বিতীয় প্রজন্মের বাংলাদেশিরা বাংলাদেশের বাজারকে নতুন চোখে দেখতে পারে। তারা ইউরোপীয় ব্যবসায়িক সংস্কৃতি, প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির সঙ্গে বাংলাদেশের বাজারের সম্ভাবনাকে যুক্ত করতে পারে।

বাংলাদেশের প্রয়োজন এই সেতুবন্ধনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া।

ফেরত আসা শ্রমিকও উদ্যোক্তা হতে পারেন :

বিদেশফেরত কর্মীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশে কাজ করে অর্জিত দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও সঞ্চয় দেশে ফিরে যদি ব্যবসায় বিনিয়োগ করা যায়, তাহলে অভিবাসনের অর্থনৈতিক সুফল আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

২০২৬ সালের জুলাইয়ে SME Foundation ও Karmasangsthan Bank-এর উদ্যোগে ফেরত আসা অভিবাসী কর্মীদের জন্য ৫০ কোটি টাকার একটি অর্থায়ন উদ্যোগ চালু হওয়ার কথা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO)। এতে স্বল্পসুদে ঋণ, জামানতবিহীন অর্থায়ন ও নমনীয় পরিশোধ ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে।

এ ধরনের উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন। কারণ বিদেশে কাজ করা একজন মানুষ শুধু অর্থ নিয়ে ফেরেন না; তিনি অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, বাজারজ্ঞান ও আন্তর্জাতিক কর্মসংস্কৃতিও নিয়ে ফেরেন।

বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের একটি বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক দরকার :

আজ ইউরোপের এক দেশে যে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী আছেন, অন্য দেশে থাকা বাংলাদেশি ব্যবসায়ীর সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়তো সীমিত। অথচ একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক থাকলে তারা পরস্পরের পণ্য, সেবা, বাজার ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারেন।

লিসবন থেকে প্যারিস, মাদ্রিদ থেকে রোম, বার্লিন থেকে আমস্টারডাম, লন্ডন থেকে ব্রাসেলস-ইউরোপজুড়ে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের একটি সমন্বিত ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক গড়ে উঠতে পারে।

এই নেটওয়ার্ক শুধু বাংলাদেশিদের জন্য নয়, বাংলাদেশের জন্যও একটি অর্থনৈতিক সম্পদ হতে পারে।

একজন পর্তুগালপ্রবাসী বাংলাদেশি উদ্যোক্তা হয়তো পর্তুগালের বাজার সম্পর্কে জানেন। একজন ফ্রান্সপ্রবাসী উদ্যোক্তা জানেন ফ্রান্সের বাজার। একজন ইতালিপ্রবাসী জানেন ইতালির ভোক্তা চাহিদা। এই অভিজ্ঞতাগুলোকে বাংলাদেশের রপ্তানি কৌশলের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে প্রবাসী বাংলাদেশিরা কার্যত বাংলাদেশের অনানুষ্ঠানিক বাণিজ্য প্রতিনিধি হিসেবেও কাজ করতে পারেন।

শ্রমিক থেকে উদ্যোক্তা, এখানেই শেষ নয় :

বাংলাদেশিদের প্রবাসজীবনের ইতিহাস মূলত শ্রমের ইতিহাস। কিন্তু এখন সেই ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যুক্ত হচ্ছে উদ্যোক্তার।

একজন শ্রমিক যখন ব্যবসায়ী হন, তখন শুধু তার নিজের জীবন বদলায় না; তার পরিবার, কর্মচারী, কমিউনিটি এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কও নতুনভাবে যুক্ত হয়।

তাই প্রবাসী বাংলাদেশিকে শুধু রেমিট্যান্স পাঠানো মানুষ হিসেবে দেখার সময় শেষ হয়েছে। তাকে দেখতে হবে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা, রপ্তানিকারক, আমদানিকারক এবং অর্থনৈতিক অংশীদার হিসেবে।

বাংলাদেশ সরকার যদি প্রবাসী উদ্যোক্তাদের জন্য তথ্য, অর্থায়ন, আইনগত সহায়তা, বিনিয়োগ সুরক্ষা ও দ্রুত প্রশাসনিক সেবা নিশ্চিত করতে পারে, আর দূতাবাসগুলো যদি বাণিজ্যিক সংযোগ তৈরিতে আরও সক্রিয় হয়, তাহলে ইউরোপের বাংলাদেশি কমিউনিটির অর্থনৈতিক শক্তি আরও বহুগুণ বাড়তে পারে।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের হাতে শুধু কষ্টার্জিত অর্থ নেই। আছে অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং উদ্যোক্তা হওয়ার সাহস।

এই শক্তিকে যদি বাংলাদেশের উন্নয়ন ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত করা যায়, তাহলে প্রবাসীর পরিচয় শুধু ‘শ্রমিক’ শব্দে সীমাবদ্ধ থাকবে না।

তিনি হবেন বাংলাদেশের অর্থনীতির একজন বৈশ্বিক অংশীদার।

প্রশ্ন এখন একটাই: আমরা কি সেই উদ্যোক্তাকে যথেষ্ট জায়গা, সুযোগ ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত?

লেখক : প্রেসিডেন্ট : পর্তুগাল বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির ( PBCCI ), সম্পাদক : ইউরোবাংলা

Home R3