ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের চরমোনাই পীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, প্রশাসনিক দুর্বলতা ও অনিয়ম এবং বিভিন্ন অনৈসলামিক কর্মকাণ্ড নিয়ে জনগণের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার ও বিরোধী উভয় পক্ষেরই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও বিভাজনের পরিবর্তে জনগণের অধিকার, ন্যায়বিচার, সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও কল্যাণের জন্য রাষ্ট্র পরিচালনায় নৈতিকতা ও ইনসাফকে গুরুত্ব দিতে হবে।
আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে চরমোনাই মাদরাসা অডিটোরিয়ামে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে এবং বরিশাল বিভাগের ব্যবস্থাপনায় বিভাগের সকল উপজেলা ও সিটি ওয়ার্ড প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চরমোনাই পীর বলেন, প্রশাসনের দায়িত্বশীলতা ও কার্যকর নজরদারির অভাবে সমাজে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ ও অনিয়মের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। জনগণের জানমাল ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে প্রশাসনকে আরও সক্রিয়, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক ভূমিকা পালন করতে হবে। একইসঙ্গে রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোকেও শান্তিপূর্ণ ও দায়িত্বশীল পরিবেশ বজায় রাখতে ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি নেতাকর্মীদের আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিকভাবে প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দেন। তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে দায়িত্বশীল জনশক্তি গড়ে তোলা, স্থানীয় জনগণের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য প্রার্থী ও সাংগঠনিক কাঠামোকে যথাসময়ে প্রস্তুত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সংগঠনের প্রার্থীদের সফলতার জন্য নিয়মতান্ত্রিক ও জনসম্পৃক্ত কার্যক্রম জোরদার করারও নির্দেশনা দেন।
প্রধান আলোচক হিসেবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, “সংগঠনের আগামী দিনের লক্ষ্য হলো তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা, জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং আদর্শিক ও দক্ষ নেতৃত্ব গড়ে তোলা। ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে সংগঠনকে সুসংগঠিত করে জনগণের কাছে ইসলামী আন্দোলনের নীতি, আদর্শ ও কর্মসূচি তুলে ধরতে হবে। পাশাপাশি সমাজে ন্যায়, ইনসাফ ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিয়মতান্ত্রিকভাবে জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে।”
এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মাদ নেছার উদ্দিন, সহকারী মহাসচিব মুফতি সৈয়দ এছহাক মুহাম্মাদ আবুল খায়ের এবং কেন্দ্রীয় সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ এমপি।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) উপাধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মাদ সিরাজুল ইসলাম।
সম্মেলনে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন উপজেলা ও সিটি ওয়ার্ডের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। এ সময় সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে প্রতিনিধিদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।