তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান মিলে প্রস্তাবিত ‘মক্কা জোট’ মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তিনি জানিয়েছেন, তিন দেশের জোরালো রাজনৈতিক সদিচ্ছার ভিত্তিতে এই ত্রিদেশীয় জোট গঠনের প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।
একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে হাকান ফিদান জানান, খুব শিগগিরই মক্কা জোটের প্রধান কার্যালয় চালু করা হবে এবং সেখানে প্রয়োজনীয় সামরিক কর্মকর্তাদের মোতায়েন করা হবে। তুর্কি বার্তা সংস্থা *আনাদোলু এজেন্সি*র বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, এই জোট কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে শত্রুতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে নয়; বরং আঞ্চলিক দেশগুলো যাতে আত্মরক্ষা জোরদার করতে পারে এবং নিজেদের মধ্যকার সংকটগুলো নিজেরাই নিরসন করতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ। বিশেষ করে সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও দেশটির ওপর যেকোনো সম্ভাব্য হামলা প্রতিহতে আঙ্কারা পাশে থাকবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। ভারত বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগকে কেবল ‘কাগজে-কলমে বন্দি’ বলে টিপ্পনী কাটার বিষয়টি উড়িয়ে দিয়ে ফিদান বলেন, তাদের এই বিরোধিতাই স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে মক্কা জোট ভবিষ্যতে কতটা প্রভাবশালী ভূমিকা রাখতে যাচ্ছে।
গাজা ও মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক সংকট প্রসঙ্গে ফিদান অভিযোগ তোলেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতা ধরে রাখতে গাজা ও সিরিয়ায় ক্রমাগত সংকট তৈরি করে চলেছেন। ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী জনগণের পক্ষে তুরস্কের কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত থাকবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর দেশটির পুনর্গঠনে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে আঙ্কারা। এ ক্ষেত্রে ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান ও প্রেসিডেন্ট আহমদ আল-শারার বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সাক্ষাৎকারে আন্তর্জাতিক রাজনীতির নানা দিক বিশ্লেষণ করে হাকান ফিদান জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সম্পর্ক উন্নয়ন, ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের মধ্যে কৃষ্ণসাগরে শস্য সরবরাহ অব্যাহত রাখা এবং গ্রিসের সঙ্গে এজিয়ান সাগরের উত্তেজনা প্রশমনে কাজ করছে আঙ্কারা। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-কে ভবিষ্যতের জাতীয় নিরাপত্তার অন্যতম অনুষঙ্গ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, আধুনিক বিশ্বে নিজেদের শক্তিমত্তা অটুট রাখতে তুরস্ককে উন্নত ডেটা সেন্টার ও নিজস্ব প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ওপর সর্বোচ্চ জোর দিতে হবে।