লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ‘অটল শিলাখণ্ডের’ মতো দাঁড়িয়ে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আআয়াতুল্লাহ মোজতবা সাইয়্যেদ আলী খামেনি। তিনি বলেন, হিজবুল্লাহর এই দৃঢ়তা বিশ্বের মুক্তিকামী জাতিগুলোর জন্য অনুপ্রেরণায় পরিণত হয়েছে। খবর তাসনিম নিউজ এজেন্সির।
হিজবুল্লাহর মহাসচিব শেখ নাইম কাসেম ও সংগঠনটির যোদ্ধাদের পাঠানো আনুগত্যের চিঠির জবাবে দেওয়া এক বার্তায় খামেনি এসব কথা বলেন। ২৬ জুলাই প্রকাশিত ওই চিঠিতে তিনি হিজবুল্লাহ সদস্যদের ধৈর্য, আত্মত্যাগ ও প্রতিরোধের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
খামেনি বলেন, বিশ্বের বহু জাতি যুক্তরাষ্ট্র ও ‘অপরাধী জায়নবাদীদের’ অত্যাচার ও নিপীড়নে ক্লান্ত। এ পরিস্থিতিতে ‘জিহাদ ও প্রতিরোধ’ ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, এই পথে অবিচল থাকলে শেষ পর্যন্ত বিজয় অর্জন সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, হিজবুল্লাহ বর্তমানে ইসরাইলি আগ্রাসন ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে লড়াইরত শক্তিগুলোর অগ্রভাগে রয়েছে। সংগঠনটির এই অবস্থান বিশ্বজুড়ে স্বাধীনতাকামীদের জন্য একটি অনুকরণীয় উদাহরণ।
খামেনি লেবাননের জনগণের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন। বিশেষ করে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দাদের ধৈর্য, আত্মত্যাগ ও সমর্থনকে তিনি এ অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা জানান, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান হিজবুল্লাহসহ অন্যান্য ‘নিপীড়িত কিন্তু শক্তিশালী প্রতিরোধযোদ্ধাদের’ সমর্থনকে নিজেদের কৌশলগত দায়িত্ব হিসেবে দেখে। তিনি বলেন, লেবাননের আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষা এবং ইসরাইলি আগ্রাসনের নিঃশর্ত অবসান যেকোনো যুদ্ধবিরতি বা সমঝোতার প্রধান শর্ত হওয়া উচিত।
চিঠিতে তিনি হিজবুল্লাহর সাবেক মহাসচিব সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহসহ নিহত নেতাদের স্মরণ করেন এবং তাদের অবদানকে ‘ইসলামি প্রতিরোধকে শক্তিশালী বৃক্ষে পরিণত করার’ কৃতিত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন।
শেষে তিনি প্রতিরোধ আন্দোলনের যোদ্ধা, শহীদ, আহত ব্যক্তি এবং বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জন্য দোয়া করেন এবং তাদের ওপর আল্লাহর রহমত কামনা করেন।