২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

হরমুজ প্রণালিতে টোল দিলে নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি আমেরিকার

হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলো ইরানকে কোনো ধরনের টোল বা ফি দিলে সংশ্লিষ্ট জাহাজ কোম্পানি ও ব্যক্তিদের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে আমেরিকা।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (১ মে) মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিশেষ সতর্কবার্তায় এই ঘোষণা দেওয়া হয়। এদিকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে মার্কিন নৌ-অবরোধ তৃতীয় সপ্তাহে গড়াচ্ছে। খবর আলজাজিরার।

মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক দপ্তর (ওফাক) জানিয়েছে, ইরান নিরাপদ চলাচলের নিশ্চয়তা দেওয়ার নাম করে জাহাজ মালিকদের কাছ থেকে প্রচলিত মুদ্রা ছাড়াও ডিজিটাল সম্পদ বা ক্রিপ্টোকারেন্সি ও অন্যান্য অনানুষ্ঠানিক উপায়ে অর্থ দাবি করতে পারে। এমনকি এসব অর্থ যদি রেড ক্রিসেন্ট বা অন্য কোনো দাতব্য সংস্থার নামে অনুদান হিসেবেও প্রদান করা হয়, তবে তাকে নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের শামিল বলে গণ্য করা হবে।

আমেরিকা জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক এই নৌপথের দখলদারি বজায় রাখতে ইরান যে ধরনের অর্থনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান দেশটির বন্দর অবরোধকে ‘অসহনীয়’ বলে মন্তব্য করেছেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ওয়াশিংটন ‘হুমকিমূলক অবস্থান’ পরিবর্তন করলে তেহরান কূটনৈতিক আলোচনায় প্রস্তুত রয়েছে।

বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরান এর আগে যুদ্ধ অবসানের শর্ত হিসেবে এই প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে ফি আদায়ের প্রস্তাব দিলেও ওয়াশিংটন তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে বড় ধরনের হামলা বন্ধ থাকলেও তেহরান ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে একটি নতুন স্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে হোয়াইট হাউস সেই প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত কিছু না জানালেও ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণ ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে।