৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ইসরাইলের বিরুদ্ধে গম চুরির অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ভাবছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

রাশিয়ার দখল করা ইউক্রেনীয় অঞ্চল থেকে চুরি করা গম আমদানির অভিযোগে ইসরাইল-এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

ভ্লাদিমির জেলেনস্কি বলেন, চুরি করা পণ্য কেনা কোনো স্বাভাবিক দেশের আচরণ হতে পারে না এবং এটি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। তিনি দাবি করেন, লুট করা গম বহনকারী একটি জাহাজ ইতোমধ্যে ইসরাইলে পৌঁছেছে এবং তা খালাসের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ ধরনের কার্যক্রমকে বৈধ ব্যবসা বলা যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইইউর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাশিয়াকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যেতে সহায়তা করার অভিযোগে ইসরাইলি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

ইইউর পররাষ্ট্রবিষয়ক মুখপাত্র আনোয়ার এল আনৌনি বলেন, রাশিয়ার অবৈধ যুদ্ধ প্রচেষ্টায় অর্থ জোগাতে সহায়ক সব ধরনের পদক্ষেপের নিন্দা জানানো হচ্ছে এবং প্রয়োজনে তৃতীয় দেশের ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হতে পারে।

এদিকে হাইফা উপসাগর-এ একটি রুশ ‘শ্যাডো ফ্লিট’ জাহাজ ভেড়ার ঘটনায়ও ব্যাখ্যা চেয়েছে ইইউ। ইসরাইলি দৈনিক হারেজ-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, দখলকৃত ইউক্রেনীয় অঞ্চল থেকে গম জটিল সামুদ্রিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে পাচার করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ছোট জাহাজ বা রেলপথে গম সমুদ্রে এনে পরে বড় জাহাজে স্থানান্তর করা হয় এবং উৎস গোপন করতে জাহাজগুলোর ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ রাখা হয়। উপগ্রহ চিত্র, শিপিং ডেটা ও রুশ নথিপত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৩ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের কার্যক্রম চলছে।

ইউক্রেন-এর হিসাবে, ২০২২ সালে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর থেকে অন্তত ১ কোটি ৫০ লাখ টন গম দখল করা হয়েছে, যার বিক্রির অর্থ মস্কোর যুদ্ধ তহবিলে যোগ হচ্ছে।

তবে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। অনেক পর্যবেক্ষক এটিকে ‘দ্বৈত মানদণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অবৈধ বসতিতে উৎপাদিত পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরেই ইসরাইলের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি ইইউ।