১০ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শেষের পথে : পুতিন

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শেষের পথে বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

স্থানীয় সময় শনিবার (৯ মে) মস্কোতে বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

পুতিন বলেন, আমার মনে হয়, বিষয়টি শেষের দিকে এগোচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি ইউরোপের জন্য নতুন নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে আলোচনার আগ্রহও প্রকাশ করেন। এ ক্ষেত্রে আলোচনার জন্য জার্মানির সাবেক চ্যান্সেলর গেরহার্ড শ্রোডারকে নিজের পছন্দের অংশীদার বলে উল্লেখ করেন তিনি। খবর রয়টার্সের।

২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই যুদ্ধকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই রাশিয়া ও পশ্চিমা বিশ্বের সম্পর্ক তীব্র সংকটে পড়ে।

এর আগে শনিবার মস্কোর রেড স্কয়ারে আয়োজিত বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজে পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধে বিজয়ের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে এবারের কুচকাওয়াজ ছিল সাম্প্রতিক বছরের মধ্যে সবচেয়ে সীমিত পরিসরের।

রাশিয়ার দাবি, পশ্চিমা দেশগুলো ১৯৮৯ সালে বার্লিন প্রাচীর পতনের পর ন্যাটো পূর্ব দিকে সম্প্রসারণ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু পরে তারা ইউক্রেনকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর দিকে টানতে চেয়েছে। পুতিন যুদ্ধের জন্য পশ্চিমা গ্লোবালিস্ট নেতাদের দায়ী করেন।

রাশিয়ার বার্ষিক বিজয় দিবস দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের বিজয় স্মরণে পালিত হয়। যুদ্ধে প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ সোভিয়েত নাগরিক নিহত হন।

এবারের কুচকাওয়াজে আগের মতো আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র, ট্যাংক বা ভারী অস্ত্র প্রদর্শন করা হয়নি। পরিবর্তে রেড স্কয়ারের পাশে বড় পর্দায় যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত রুশ সামরিক সরঞ্জামের ভিডিও প্রদর্শন করা হয়।

চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা ইউক্রেন যুদ্ধে এখনও পুরো দনবাস অঞ্চল দখল করতে পারেনি রাশিয়া। যদিও দেশটি বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত তিন দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। এতে মস্কো ও কিয়েভ উভয়ই সম্মতি জানিয়েছে। দুই দেশ ১ হাজার করে যুদ্ধবন্দি বিনিময়েও রাজি হয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, আমি চাই এই যুদ্ধ থেমে যাক। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটাই সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাণহানির সংঘাত। তিনি যুদ্ধবিরতি আরও দীর্ঘায়িত করার আহ্বান জানান।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা সম্পর্কেও মন্তব্য করেন পুতিন। তিনি বলেন, স্থায়ী শান্তিচুক্তি হলে বৈঠক সম্ভব।