ভোটে হেরে গিয়ে এবার নতুন রাজনৈতিক মঞ্চ গঠনের ডাক দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাম ও অতিবামসহ সব বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে এক ছাতার নিচে আসার আহ্বান জানান এবং বিজেপির বিরুদ্ধে একটি বৃহত্তর জোট গঠনের প্রস্তাব তুলে ধরেন তিনি।
শনিবার (৯ মে) কলকাতার কালীঘাটে নিজ বাসভবনে রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান। একই দিনে ব্রিগেড ময়দানে বিজেপির নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, চারদিকে সন্ত্রাসের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আমি সমস্ত রাজনৈতিক দল, ছাত্র-যুব সংগঠন ও সামাজিক সংগঠনকে বলছি— একসঙ্গে জোট বাঁধুন। বিজেপির বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী মঞ্চ গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বাম, অতিবাম কিংবা যেকোনো জাতীয় দল- যেখানেই থাকুন না কেন, আসুন একসঙ্গে কাজ করি। শত্রুর শত্রুই আমার বন্ধু। আমাদের মূল লক্ষ্য বিজেপির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়া।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি সামনে রেখে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথের আদর্শ সামনে রেখে আমি সবাইকে ঐক্যের আহ্বান জানাচ্ছি। এখন ব্যক্তিগত পরিচয়ের চেয়ে বড় হলো গণতন্ত্র রক্ষা।
মমতার এই আহ্বানের জবাবে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম রবীন্দ্রনাথের একটি উক্তি উল্লেখ করে প্রতিক্রিয়া জানান।
কালীঘাটের অনুষ্ঠান থেকেই বিজেপির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগও তোলেন তিনি। মমতার দাবি, বিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং তার বাসভবন ও দলের নেতাদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের কর্মীদের ওপর লাগাতার চাপ ও ভয়ভীতি সৃষ্টি করা হচ্ছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভোট-পরবর্তী সময়ে তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জায়গায় সহিংসতা ও হয়রানির ঘটনা ঘটছে। এ পরিস্থিতিতে আক্রান্তদের সহায়তায় একটি তহবিল গঠনের ঘোষণা দেন তিনি। আইনগত বিষয় দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
২০১১ সালের পরিবর্তনের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা টেনে মমতা বলেন, তখন আমরা ক্ষমতায় এসে কাউকে হয়রানি করিনি। কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভিন্ন।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে এবং ভবিষ্যতে সত্য প্রকাশ পাবে। একইসঙ্গে তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়েছে এবং তারা তাকে সমর্থন জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বক্তব্য মূলত বিজেপি বিরোধী বৃহত্তর জোট গঠনের রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।