পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পরও পদত্যাগ করতে রাজি নন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে, বিধানসভার বর্তমান মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৭ মে, আর আগামী ৯ মে বিজেপি নতুন সরকার গঠনের শপথ নিতে যাচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
এই পরিস্থিতিতে দলে অনৈক্যের আশঙ্কা এবং ভোট-পরবর্তী সহিংসতার অভিযোগ নিয়েও উদ্বিগ্ন তৃণমূল নেত্রী।
গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় অনুষ্ঠিত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ হয় ৪ মে। ২৯৪ আসনের মধ্যে বিজেপি জয় পেয়েছে ২০৭টিতে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮০টি আসন। কংগ্রেস ও আম জনতা উন্নয়ন পার্টি পেয়েছে ২টি করে আসন, আর সিপিআই (এম) ও অল ইন্ডিয়া সেক্যুলার ফ্রন্ট পেয়েছে ১টি করে আসন। অনিয়মের অভিযোগে একটি আসনের ফল বাতিল করা হয়েছে।
বুধবার কলকাতার কালীঘাটে দলের জয়ী প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমি পদত্যাগ করতে যাব না। প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতি শাসন হলে হোক, ইতিহাসে তা থাকুক।” তিনি জানান, নিজে ছাড়াও দলের কয়েকজন আইনজীবী নেতাকে নিয়ে আইনি লড়াই চালাবেন।
বৈঠকে তিনি কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলায় দলীয় ঐক্যের ওপর জোর দেন এবং অন্তর্ঘাতের অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, “যারা অন্তর্ঘাত করছে, তাদের নাম দিন।”
তবে ওই বৈঠকে ৮০ জন জয়ী বিধায়কের মধ্যে ১০ জন অনুপস্থিত ছিলেন। তাদের অনুপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—তারা কি অন্য শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন, নাকি দলের নেতৃত্বের প্রতি অসন্তোষ থেকেই দূরত্ব বজায় রাখছেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও জানান, ভোট-পরবর্তী সময়ে কলকাতাসহ বিভিন্ন এলাকায় দলীয় কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনার তদন্তে শিগগিরই ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং টিম পাঠানো হবে। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “সহিংসতার শিকার হলে অনলাইনে অভিযোগ করুন। প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা উচিত।”