২২শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আন্দোলনে কাঁপছে দিল্লি, চাপের মুখে মোদি সরকার

ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে শুরু হওয়া আন্দোলন নতুন মাত্রা পেয়েছে। প্রথমে শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার ও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে শুরু হলেও এখন আন্দোলনের একাংশ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র পদত্যাগও দাবি করছে।

বুধবার (২২ জুলাই) রাজধানী নয়াদিল্লি-র যন্তর মন্তরে অনলাইনভিত্তিক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র ডাকে হাজারো আন্দোলনকারী জড়ো হন। কর্মসূচিটি এখন দেশটির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে এবং বিরোধী দলগুলোর সমর্থনে এর রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, আন্দোলনকারীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত যন্তর মন্তরে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে সেখানে প্রধানমন্ত্রী মোদির পদত্যাগের দাবিও জোরালোভাবে উঠছে।

সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, “ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।” তিনি দাবি করেন, এই আন্দোলন মানুষকে আবার প্রশ্ন করতে শিখিয়েছে।

তরুণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা এই আন্দোলন মঙ্গলবার বিরোধী দলগুলোর সমর্থন পাওয়ার পর আরও গতি পায়। রাহুল গান্ধী-সহ বিরোধী নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পুলিশ তাকে আটক করলেও পরে মুক্তি দেওয়া হয়। সংসদে কালো পোশাক পরে উপস্থিত হয়ে তিনি শিক্ষা খাতে জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

এছাড়া অখিলেশ যাদব আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকারের নীরবতা উদ্বেগজনক।

গত মে মাসে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট-এর এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে ব্যঙ্গাত্মক একটি প্ল্যাটফর্মের সূচনা হয়। পরবর্তীতে এটি প্রশ্নপত্র ফাঁস, বেকারত্ব ও শিক্ষা খাতের অনিয়মের বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলনে রূপ নেয়।

সোমবার সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনে আন্দোলনকারীরা সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা করলে দিল্লি পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারগ্যাস ব্যবহার করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। এতে কয়েকটি স্থানে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।

মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলে বলেছে, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

এদিকে, আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা একটি আবেদন শুনতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।

যন্তর মন্তরে অবস্থানরত এক শিক্ষার্থী জানান, পুলিশের কঠোর অবস্থানের পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া ছাড়া তাদের আর কোনো পথ নেই।

উল্লেখ্য, নিটসহ বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থীকে পুনরায় পরীক্ষা দিতে হয়েছে। এর মধ্যেই শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকার শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও এ বিষয়ে সংসদে আলোচনায় প্রস্তুত।

এদিকে দিল্লির বাইরে মুম্বাই, বেঙ্গালুরু ও গোয়া-সহ বিভিন্ন শহরেও আন্দোলনের সমর্থনে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

Home R3