২১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মসজিদে হামলায় নিজের জীবন দিয়ে বহু মানুষের প্রাণ বাঁচালেন ‘বীর’ আবদুল্লাহ নিহত নিরাপত্তাকর্মী আমিন আবদুল্লাহ। ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোতে একটি মসজিদে বন্দুক হামলার ঘটনায় নিরাপত্তাকর্মী আমিন আবদুল্লাহর বীরত্বপূর্ণ আত্মত্যাগে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, সান ডিয়েগোর একটি ইসলামিক সেন্টারে সংঘটিত এ হামলায় আমিন আবদুল্লাহসহ তিন মুসল্লি নিহত হন। হামলার পর দুই কিশোর হামলাকারী আত্মহত্যা করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা মসজিদের প্রবেশপথে পৌঁছালে আমিন আবদুল্লাহ সাহসিকতার সঙ্গে তাদের প্রতিরোধের চেষ্টা করেন এবং গুলি চালান। পাল্টা গুলিতে তিনি নিহত হন। তবে মৃত্যুর আগে তিনি জরুরি লকডাউন ব্যবস্থা চালু করতে সক্ষম হন, যার ফলে ইসলামিক সেন্টারের সঙ্গে সংযুক্ত স্কুলের প্রায় ১৪০ শিশুসহ বহু মানুষের জীবন রক্ষা পায়।

সান ডিয়েগো পুলিশের প্রধান স্কট ওয়াল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তার কর্মকাণ্ড নিঃসন্দেহে বীরত্বপূর্ণ ছিল। তিনি অসংখ্য প্রাণ বাঁচিয়েছেন।

হামলায় নিহত অপর দুই মুসল্লির নাম মনসুর কাজিহা ও নাদের আওয়াদ। তারা দুজনই মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি ছিলেন বলে জানিয়েছে কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (কেইর-এসডি)।

আমিন আবদুল্লাহ ছিলেন আট সন্তানের জনক এবং দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে মসজিদে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। স্থানীয়দের কাছে তিনি অত্যন্ত প্রিয় ও সদালাপী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

কেইর-এসডির মুখপাত্র তাজহীন নিজাম বলেন, তিনি প্রতিদিন হাসিমুখে মানুষকে স্বাগত জানাতেন এবং শিশুদের খুব স্নেহ করতেন। তিনি সত্যিকারের একজন বীর।

ঘটনাটিকে ‘ঘৃণাজনিত অপরাধ’ হিসেবে তদন্ত করছে পুলিশ। সন্দেহভাজনদের সংশ্লিষ্ট তিনটি বাসা থেকে ৩০টির বেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও একটি ক্রসবো উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি ধর্মীয় ও বর্ণবাদী মতাদর্শসম্পন্ন কিছু নথিও জব্দ করা হয়েছে।

সান ডিয়েগোর মেয়র টড গ্লোরিয়া বলেন, এই হামলাকারীরা আমাদের শহরের প্রতিনিধিত্ব করে না। বরং নিহত মুসলিমরাই আমাদের প্রকৃত পরিচয় বহন করেন।

এদিকে নিহতদের পরিবারের সহায়তায় চালু করা অনলাইন তহবিলে ইতোমধ্যে প্রায় ২ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলার অনুদান সংগ্রহ হয়েছে।

Home R3