৯ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ইউরোপ

পর্তুগালের ‘একক সামাজিক সুবিধা’ পিএসইউ অনুমোদন, মিলবে ৬২ কোটি ইউরোর তহবিল

পর্তুগালের ‘একক সামাজিক সুবিধা’ পিএসইউ অনুমোদন, মিলবে ৬২ কোটি ইউরোর তহবিল

পর্তুগালের নতুন ‘একক সামাজিক সুবিধা’ বা পিএসইউ বিল অনুমোদন করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও জোসে সেগুরো। তবে তিনি শর্ত দিয়েছেন, নতুন ব্যবস্থায় কোনো সুবিধাভোগী আর্থিক ক্ষতির শিকার হতে পারবেন না।

এই সংস্কারের ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পুনরুদ্ধার তহবিল থেকে প্রায় ৬০ থেকে ৬২ কোটি ইউরো পাওয়ার পথ তৈরি হলো পর্তুগালের। আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে সংস্কারটি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল দেশটি।

পিএসইউর আওতায় বর্তমানে চালু থাকা ১৩টি নন-কন্ট্রিবিউটরি সামাজিক ভাতা একীভূত করা হবে। পরিবারের আয়, সদস্যসংখ্যা ও সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভাতার পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।

একীভূত হতে যাওয়া ভাতার মধ্যে রয়েছে সামাজিক একীকরণ আয়, সামাজিক বেকারত্ব সুবিধা, সামাজিক বার্ধক্য ও বিধবা পেনশন, অনাথদের ভাতা এবং মাতৃত্বকালীন ছুটি, প্রতিবন্ধী ও গর্ভাবস্থাসহ বিভিন্ন নন-কন্ট্রিবিউটরি সুবিধা।

সরকারের দাবি, এতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমবে। সামাজিক সহায়তা পাওয়ার নিয়মও সহজ হবে। একই সঙ্গে ১৩টি পৃথক আইটি ব্যবস্থার বদলে একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে বছরে প্রায় ৩২ লাখ ইউরো সাশ্রয় হবে।

নতুন পিএসইউর রেফারেন্স মূল্য নির্ধারণ করা হবে সামাজিক সহায়তা সূচক বা আইএএসের ৫০ শতাংশ। ২০২৬ সালে এর পরিমাণ প্রায় ২৬৮.৬০ ইউরো।

সরকার জানিয়েছে, নতুন ব্যবস্থায় বছরে সামাজিক খাতে অতিরিক্ত ৩ কোটি ইউরোর বেশি ব্যয় হবে।

তবে প্রেসিডেন্ট সেগুরো সতর্ক করে বলেছেন, সামাজিক সুরক্ষা সহজ করার নামে তা কমানো যাবে না। বিশেষ করে স্বল্প আয়ের পরিবার, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ও সংকটে থাকা মানুষদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে যারা সুবিধা পাচ্ছেন, তাঁদের কেউ যেন রূপান্তরের কারণে আর্থিক ক্ষতির শিকার না হন।

আইন অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থা আগের ভাতার চেয়ে কোনোভাবেই কম সুবিধাজনক হতে পারবে না। এটি আগামী ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ কার্যকর হবে। বর্তমান সুবিধাভোগীদের জন্য থাকবে বিশেষ রূপান্তর ব্যবস্থা।

পৌরসভাগুলোর ওপর নতুন দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়েও সতর্ক করেছেন সেগুরো। তাঁর মতে, এসব দায়িত্ব পালনের জন্য পৌরসভাগুলোকে প্রয়োজনীয় জনবল, সম্পদ ও অর্থ দিতে হবে।

এখন পিএসইউ বাস্তবায়নের বিস্তারিত নিয়মকানুনের দিকে নজর রয়েছে। সেখানেই স্পষ্ট হবে, বর্তমান সুবিধাভোগীদের আর্থিক ক্ষতি না করার প্রতিশ্রুতি সরকার কতটা বাস্তবায়ন করতে পারে।

Home R3