ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কালনায় হিন্দুদের উল্টো রথযাত্রার দুই দিন পর রাস্তায় পার্কিংয়ে থাকা এক রথে জুতা পরে উঠে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য ভিডিও (রিল) ধারণ করায় গ্রেপ্তার হয়েছেন সমুদ্রগড়ের বাসিন্দা বাবুলাল শেখ। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি জুতা পরে রথের সিঁড়িতে নাচেন এবং সেই ভিডিও ফেসবুকে প্রকাশ করেন। ভিডিওটি ভাইরাল হলে স্থানীয় ভক্তদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরে পশ্চিম নসরতপুর হরেকৃষ্ণ নামহট্ট সংঘ এ ঘটনায় অভিযোগ দায়ের করে।
এই ঘটনায় কালনার আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাবুলাল শেখকে প্রতিদিন মন্দির প্রাঙ্গণ ও সংলগ্ন সড়ক পরিষ্কার করতে হবে। এই শর্তে জামিন মঞ্জুর হয় বাবুলাল শেখের। পাশাপাশি তাকে সপ্তাহে একবার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হাজির হতে হবে এবং তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) মুসলিম মিররসহ ভারতের বিভিন্ন সংবাদমদ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
এর আগে নদনঘাট থানার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) বিভিন্ন ধারায় মামলা করা হয়। এসব ধারার মধ্যে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানো এবং ইচ্ছাকৃতভাবে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার অভিযোগ রয়েছে।
কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, পুলিশি তত্ত্বাবধানে তাকে এক সপ্তাহ রথের সিঁড়ি ধোয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে আদালতের নথিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, তাকে শুধু রথ নয়, পুরো মন্দির প্রাঙ্গণ ও আশপাশের রাস্তা পরিষ্কার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জামিন শুনানিতে বাবুলালের আইনজীবী দাবি করেন, তুলনামূলক কম সাজাযোগ্য মামলায় গ্রেপ্তারের আগে পুলিশ যে বাধ্যতামূলক নোটিশ দেওয়ার কথা, তা দেওয়া হয়নি। এছাড়া তিনি বলেন, এ ঘটনায় কোনো সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়নি এবং বাবুলালের কোনো ধর্মকে অপমান করার উদ্দেশ্যও ছিল না।
আদালতে নেওয়ার সময় সাংবাদিকদের সামনে বাবুলাল শেখ প্রকাশ্যে ক্ষমা চান। তিনি বলেন, “আমি জানতাম না যে রথে জুতা পরে ওঠা যায় না। আমার ভুল হয়েছে। আমি অনুতপ্ত। ভবিষ্যতে আর কখনও এমন হবে না।”
এ সময় তিনি হাতজোড় করে ক্ষমা চান। স্থানীয়দের ভাষ্য, অনুতাপ প্রকাশের অংশ হিসেবে তিনি কানও ধরেছিলেন।
জামিনের এই শর্তকে ঘিরে এলাকায় আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, একজন মুসলিম অভিযুক্তকে কেন হিন্দু মন্দির প্রাঙ্গণ পরিষ্কার করার শর্ত দেওয়া হলো। তবে পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা বজায় রেখে আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে এবং নতুন করে কোনো উত্তেজনা সৃষ্টি হতে দেবে না।
সূত্র : মুসলিম মিরর