১লা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক ভারসাম্য ফেরানোর চেষ্টা ইউরোপীয় ইউনিয়নের

চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক ভারসাম্য ফেরাতে চাপ বাড়াচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। তবে বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিংয়ের কাছ থেকে বড় ধরনের ছাড় আদায় করা ব্রাসেলসের জন্য সহজ হবে না।

ইইউর সঙ্গে চীনের বাণিজ্য ঘাটতি দ্রুত বেড়েছে। ২০২৫ সালে তা দৈনিক প্রায় ১০০ কোটি ইউরোতে পৌঁছেছে। এ পরিস্থিতিকে ‘অস্থিতিশীল’ বলে উল্লেখ করছে ইউরোপ।

অবৈধ পণ্য, সরকারি ভর্তুকি এবং বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে চীনা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে ইইউ। এর জবাবে পাল্টা পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে বেইজিং।

গত ২৯ জুন ব্রাসেলসে বৈঠক করেন ইইউর বাণিজ্য কমিশনার মারোশ শেফচোভিচ ও চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াং ওয়েনতাও। উভয় পক্ষ সম্পর্ককে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করার বিষয়ে আলোচনা করে।

শেফচোভিচ অক্টোবর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন। এর মধ্যে আলোচনায় দৃশ্যমান অগ্রগতি চান তিনি।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের অর্থনীতি মূলত রপ্তানিনির্ভর। তাই তারা সহজে রপ্তানি কমাতে রাজি হবে না। বরং ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর জন্য কিছু বাজার সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব আসতে পারে।

২০২০ সালে ইইউর সঙ্গে চীনের বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ১৮২ বিলিয়ন ইউরো। ২০২৫ সালে তা বেড়ে ৩৬০ বিলিয়ন ইউরো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, রাষ্ট্রীয় ভর্তুকিপ্রাপ্ত চীনা পণ্যের কারণে ইউরোপের কয়েকটি শিল্প খাত বড় ধরনের চাপে রয়েছে।

ইইউ এখন সরবরাহ ব্যবস্থায় বৈচিত্র্য আনার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে তা বাস্তবায়নে কয়েক বছর সময় লাগবে।

অন্যদিকে, বিরল খনিজ (রেয়ার আর্থ) সরবরাহে চীনের আধিপত্য ইউরোপের জন্য বড় চাপের কারণ। এসব খনিজের ওপর ইউরোপের অনেক শিল্প নির্ভরশীল।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ইইউ যদি নতুন শুল্ক বা কোটার মতো কঠোর পদক্ষেপ নেয়, তাহলে চীন গুরুত্বপূর্ণ খনিজ রপ্তানিতে আরও বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে।

তাদের মতে, শেষ পর্যন্ত এই বাণিজ্য বিরোধ কতদূর গড়াবে, তা নির্ভর করবে ইইউ কতটা ঐক্যবদ্ধ থাকে এবং অর্থনৈতিক চাপ সহ্য করতে কতটা প্রস্তুত থাকে।

Home R3