ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সুপারমার্কেটে ধারাবাহিক সাইবার হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় কমিশন। এসব হামলার কারণে কয়েকটি দেশের সুপারমার্কেটের হিমায়িত খাবার সংরক্ষণের ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে সুপারমার্কেটগুলো সাইবার হামলা মোকাবিলায় কতটা প্রস্তুত, তা খতিয়ে দেখবে কমিশন।
ইউরোপীয় কমিশনের কৃষি ও খাদ্যবিষয়ক কমিশনার ক্রিস্টোফ হ্যানসেন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোকে জানিয়েছেন, কমিশনের পরবর্তী নিরাপত্তাবিষয়ক বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। সেখানে খতিয়ে দেখা হবে, সাইবার হামলার মতো পরিস্থিতিতে খুচরা বিক্রেতারা কী ধরনের বিকল্প ব্যবস্থা রেখেছেন এবং দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সক্ষমতা কতটুকু।
হ্যানসেন বলেন, ‘ইউরোপের খাদ্য সরবরাহব্যবস্থাকে নতুন ও পরিবর্তনশীল হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে হবে। সুপারমার্কেটগুলোতে বারবার সাইবার হামলার ঘটনা গভীর উদ্বেগের। এতে ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন এবং ভোক্তাদের জন্য দোকানে পণ্যের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।’
সোমবার ইউরোপের বিভিন্ন দেশের কয়েক ডজন সুপারমার্কেটে হিমায়িত খাবার সংরক্ষণের যন্ত্রে সমস্যা দেখা দেওয়ার পর কমিশনের পক্ষ থেকে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ, সুইডেন, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও এস্তোনিয়াসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্তত ছয়টি দেশে এ ধরনের হামলার খবর পাওয়া গেছে। কয়েকটি সুপারমার্কেট জানিয়েছে, হামলার পর তাদের ফ্রিজ ও হিমায়িত খাবার সংরক্ষণের যন্ত্রের তাপমাত্রা হঠাৎ বেড়ে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
২০২৫ সালের মার্চে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন কমিশনের নিরাপত্তাবিষয়ক কলেজ গঠন করেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি এবং কৌশলগত বিষয় নিয়ে আলোচনা করাই এ সংস্থার উদ্দেশ্য।
এই বৈঠকে শুধু সুপারমার্কেটের ক্ষয়ক্ষতি নয়, বরং ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা করা হবে। বিশেষ করে হাইব্রিড যুদ্ধের মতো পরিস্থিতিতে খাদ্য সরবরাহব্যবস্থায় হামলা চালিয়ে সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট করার ঝুঁকি বিবেচনায় নেওয়া হবে।
ইউরোপীয় কমিশনের নিরাপত্তাবিষয়ক কলেজ নিয়মিত বৈঠক করে। তবে কমিশনের সাপ্তাহিক সাধারণ বৈঠকের বাইরে আলাদাভাবে এসব আলোচনা হয়। গত শুক্রবার পরবর্তী বৈঠকের সময় নিয়ে আলোচনা হলেও এখনো তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি। তবে বৈঠকের পরিকল্পনায় অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা দ্রুত বৈঠক আয়োজনের পক্ষে মত দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক কর্মকর্তা।
নিরাপত্তাবিষয়ক কলেজের নেতৃত্ব দেন উরসুলা ফন ডার লেয়েন। এতে কমিশনের সব কমিশনার অংশ নেন।
এর আগে গত অক্টোবরেও ফ্রান্সের বিভিন্ন সুপারমার্কেটে সাইবার হামলার ঘটনা ঘটে। সে সময় হ্যাকাররা দূর থেকে ফ্রিজের বরফ গলানোর ব্যবস্থা চালু করে দেয় বলে ধারণা করা হয়। এতে ফ্রিজের তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে যায় এবং সংরক্ষিত খাবার নষ্ট হয়ে যায়।
অক্টোবরেই ইউরোপীয় কমিশনের কৃষিবিষয়ক কর্মকর্তারা সাইবার হামলার শিকার সুপারমার্কেটগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।
হ্যানসেন বলেন, ‘আমাদের প্রস্তুতি ও সক্ষমতা বাড়াতে প্রতিটি পর্যায়ে কাজ করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ইউরোপের খাদ্য নিরাপত্তা এখনই ঝুঁকির মুখে নেই। তবে এসব হামলার ঘটনা খাদ্য সরবরাহব্যবস্থার দুর্বলতা সামনে এনেছে। এর ফলে ব্যবসায়িক ক্ষতি, খাদ্যের অপচয় এবং ভোক্তাদের আস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
হ্যানসেনের ভাষায়, ‘এসব হামলার উদ্দেশ্য হলো আমাদের খাদ্য সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত করা এবং এর ওপর ভোক্তাদের আস্থা নষ্ট করা। বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে।’