যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুমকি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা কিংবা মনস্তাত্ত্বিক চাপে ইরান নতিস্বীকার করবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ। তিনি বলেছেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ইরানের জনগণ কোনো আপস করবে না। প্রতিপক্ষ কোনো ভুল পদক্ষেপ নিলে তার জবাব হবে কল্পনাতীত। একই সঙ্গে যুদ্ধ এড়ানোর দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) পার্লামেন্টের অধিবেশনের শুরুতে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন গালিবাফ।
তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের লক্ষ্য ইরানকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া। অতীতে অনুগত ও নির্ভরশীল শাসকদের মাধ্যমে দেশটিকে নিজেদের ইচ্ছার কাছে নত করতে চেয়েছিল ওয়াশিংটন। তবে স্বাধীনচেতা ও ঐক্যবদ্ধ ইরানি জনগণের প্রতিরোধের মুখে সেই কৌশল ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমানে সামরিক চাপ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের মাধ্যমে ইরানকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে।
গালিবাফের ভাষায়, ইরানের স্বাধীন অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যবাদী লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাধা হয়ে দাঁড়ানোই দেশটির প্রতি ওয়াশিংটনের শত্রুতার অন্যতম কারণ। ইরানের স্বাধীনতাকামী মনোভাব বিশ্বের অন্যান্য স্বাধীনতাপ্রত্যাশী জাতির কাছেও অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছে বলে দাবি করেন তিনি।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার আরও বলেন, ইরানি জনগণের ঐক্য ও প্রতিরোধ যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। সামরিক হুমকি ও হামলার মাধ্যমে ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার চেষ্টা বারবার ব্যর্থ হলেও একই ধরনের চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ইরান আত্মসমর্পণ করবে না। পরাধীন ও অনুগত শাসনামলে হয়তো এমন স্বপ্ন দেখা সম্ভব ছিল, কিন্তু বর্তমান ইরানের বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন।’
গালিবাফের দাবি, সাম্প্রতিক দুটি চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের বুঝিয়ে দিয়েছে, আধিপত্য বিস্তারের পুরোনো কৌশল আর আগের মতো কার্যকর নয়।
সম্ভাব্য শত্রু হামলা মোকাবিলায় সামরিক প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক ইতোমধ্যে সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলার কৌশল নির্ধারণ করে দিয়েছেন। সেই কৌশল অনুযায়ী, প্রতিপক্ষ কোনো ভুল হিসাব করলে ইরানের সামরিক ও কৌশলগত প্রতিক্রিয়া হবে তাদের কল্পনারও বাইরে।
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রতিপক্ষের ভৌগোলিক অবস্থান কিংবা সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় না নিয়েই এমন জবাব দেওয়া হবে, যা তাদের হিসাব-নিকাশ এবং বস্তুগত ও অবস্তুগত সক্ষমতার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।
আঞ্চলিক দেশগুলোর উদ্দেশে গালিবাফ বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকেও শক্তিশালী ও স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি বলেন, এখন বল যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে। সংঘাত এড়াতে চাইলে উদ্যোগ নিতে হবে ওয়াশিংটনকেই।