জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও অতিরিক্ত করের প্রতিবাদে ইতালির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার শুরু হওয়া বিক্ষোভে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে অন্তত ১৪১ জন পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। এ ছাড়া বিক্ষোভে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ১৯৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ইতালীয় সংবাদমাধ্যম স্কাই টিজি২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, শনিবারের তুলনায় রোববারের বিক্ষোভ আরও বড় আকার ধারণ করে। রোববার ১৯৭ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ স্টেশনে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ৪৩ জনকে আদালতে হাজির করা হয়েছে।
‘ইতালিয়া ইন পিয়াজ্জা’ ব্যানারে আয়োজিত এসব বিক্ষোভে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও অতিরিক্ত করের চাপের প্রতিবাদ জানানো হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শনি ও রোববারের বিক্ষোভে মিলানে প্রায় ৫ হাজার, তুরিনে ৩ হাজার, বোলোনিয়ায় ২ হাজার, ব্রেসিয়ায় ৬০০ এবং বেরগামোতে ৮০০ জন অংশ নেন।
মিলানে বিক্ষোভকারীদের কয়েকটি দল পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর, বোতল, আতশবাজি ও ব্যারিকেড ছুড়ে মারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাসের শেল ও জলকামান ব্যবহার করে। শহরের কেন্দ্রস্থলে কয়েকটি দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ সময় ইতালির সামরিক পুলিশ কারাবিনিয়েরি বাহিনীর একটি গাড়িও ধ্বংস করা হয়।
বিক্ষোভে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে মিলানে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইতালির খুচরা বিক্রেতাদের সংগঠন কনফেকমেরচিওর বরাত দিয়ে স্কাই টিজি২৪ জানিয়েছে, গত দুই দিনের বিক্ষোভে দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পাঁচ লাখ ইউরোরও বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে তুরিনে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে এক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকে এবং পেট্রোলবোমা হিসেবে পরিচিত ‘মলোটভ ককটেল’ বহনের অভিযোগে তিন নাবালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।