পর্তুগালে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও আবাসন সংকটের প্রতিবাদে রাজধানী লিসবনের কেন্দ্রীয় এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন হাজার হাজার মানুষ।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত এ বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে দেশটির মধ্য-ডানপন্থী সরকারের ওপর চাপ আরও বাড়ল।
বিক্ষোভের ডাক দেয় পর্তুগালের বৃহত্তম শ্রমিক সংগঠন সিজিটিপি (CGTP)। সংগঠনটি জানিয়েছে, রাজধানীর অন্যতম প্রধান সড়কে বহু হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। তবে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানায়নি।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বাসাভাড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যেভাবে বাড়ছে, সে তুলনায় মজুরি বাড়ছে না। ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর সদস্য দেশ পর্তুগালের অনেক মানুষকে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
এর আগে কয়েক দিন ধরে দেশটিতে অসন্তোষ বাড়ছিল। আবাসন সংকটের প্রতিবাদে পর্তুগালের উত্তরাঞ্চলীয় শহর পোর্তোতে আবাসন অধিকারকর্মীরা তাঁবু টানিয়ে অস্থায়ী শিবির গড়ে তুলেছিলেন। সোমবার ভোরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে শিবিরটি উচ্ছেদ করে।
একই সময়ে ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও সরকারি সেবার মান কমে যাওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে। বেলজিয়ামেও ছোট পরিসরে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ছাড়া আলবেনিয়ায় বড় ধরনের বিক্ষোভ চলছে। সেখানে বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছেন।
পর্তুগালে গত সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩ দশমিক ৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। খাদ্যপণ্য ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির পর দেশটিতে জ্বালানির দাম গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেড়েছে।
২০১৭ সালের পর থেকে পর্তুগালে বাড়ির দাম দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। একই সময়ে নতুন চুক্তিতে বাসাভাড়াও প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ফলে দেশটিতে আবাসন ব্যয় সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। ইউরোপের সবচেয়ে গুরুতর আবাসন সংকটগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।
আবাসন ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ :
বিক্ষোভকারীদের একজন ক্যারোলিনা ক্রুজ। ২৬ বছর বয়সী এই পিএইচডি গবেষক জীববিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করছেন। বৃত্তি থেকে তাঁর মাসিক আয় প্রায় ১ হাজার ৩০০ ইউরো। তাঁর বর্তমান বাসাভাড়ার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে থাকায় তিনি বাসা হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন।
তিনি ও তাঁর সঙ্গী লিসবন এলাকায় একটি অ্যাপার্টমেন্টের জন্য মাসে ৭১৬ ইউরো ভাড়া দেন। তবে চুক্তি নবায়নের সময় ভাড়া বেড়ে ১ হাজার ২০০ ইউরোর বেশি হতে পারে। তাঁদের পক্ষে এত বেশি ভাড়া দেওয়া সম্ভব নয়।
ক্যারোলিনা ক্রুজ বলেন, “আমিই আমার পরিবারের প্রথম ব্যক্তি, যিনি পিএইচডি পর্যায়ে পড়াশোনার সুযোগ পেয়েছেন। এত পড়াশোনা করার পরও আমি পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছি না। এই মুহূর্তে লিসবনে আবাসনই সবচেয়ে বড় সমস্যা।”
৬২ বছর বয়সী শিক্ষক পেদ্রো পেনিলো বলেন, পর্তুগালের নেতারা বাস্তব পরিস্থিতি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।
তিনি বলেন, “জীবনযাত্রার ব্যয় অবিশ্বাস্য রকম বেড়ে গেছে। দাম ভয়াবহভাবে বাড়ছে। আগামী কয়েক মাসে আমার গৃহঋণের কিস্তি কত হবে, তা নিয়ে চিন্তিত। ঋণের কিস্তি সমন্বয় করা হলে পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে, তা নিয়ে আমি খুব উদ্বিগ্ন।”
এদিকে, দেশটির সংসদবিষয়ক মন্ত্রী কার্লোস আব্রেউ আমোরিম শুক্রবার বলেছেন, “রাজপথের স্লোগানের কাছে সরকার নতি স্বীকার করবে না।” তবে মানুষের উদ্বেগ নিরসনে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
সূত্র: রয়টার্স