পর্তুগালের অতিথিপরায়ণ দুই শহর লিসবন-পোর্তো

২০২৬ সালের “কন্ডে নাস্ট ট্রাভেলার রিডার্স চয়েস অ্যাওয়ার্ডস”-এ সবচেয়ে অতিথিপরায়ণ শহরের তালিকায় প্রথম হয়েছে পর্তুগালের পোর্তো। এর পরপরই দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দেশটির রাজধানী লিসবন।

ভ্রমণকারীদের কাছে কোন শহরের মানুষ সবচেয়ে আন্তরিক ও অতিথিপরায়ণ মনে হয়েছে, তা জানতে পাঠকদের মতামতের ভিত্তিতে এ তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

পর্তুগাল সমুদ্রসৈকত, সুস্বাদু খাবার ও রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়ার জন্য আগে থেকেই পরিচিত। তবে এবারের স্বীকৃতি একটু ভিন্ন কারণে। এখানে মূল গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে শহরগুলোর মানুষের আন্তরিকতা ও অতিথিপরায়ণতার ওপর।

সপ্তাহান্তে ঘুরতে যাওয়ার জন্য পোর্তো দিন দিন আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এমন সময়ে এ স্বীকৃতি পেল শহরটি।

“কন্ডে নাস্ট ট্রাভেলার” পোর্তোর বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ, স্থানীয় খাবারের দোকান এবং পর্তুগিজদের দৈনন্দিন জীবন কাছ থেকে দেখার সুযোগের প্রশংসা করেছে। স্থানীয়দের সঙ্গে বসে ছোট ছোট নানা ধরনের খাবার উপভোগ করা কিংবা টালির নকশায় সাজানো চত্বরগুলো ঘুরে দেখার মতো অভিজ্ঞতা পর্যটকদের কাছে শহরটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

সম্প্রদায় ও মানুষের আন্তরিকতা :

তালিকায় খুব বেশি পিছিয়ে নেই লিসবনও। দ্বিতীয় স্থান পাওয়া এই শহরের প্রাণবন্ত এলাকাগুলো, ক্যাফে সংস্কৃতি এবং মানুষের মধ্যে সামাজিক বন্ধন পর্যটকদের আকৃষ্ট করেছে।

সকালের এক কাপ কফি থেকে শুরু করে সান্তো আন্তোনিও উৎসবের বর্ণিল পথ-উদ্‌যাপন, এসব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে পর্যটকেরা স্থানীয় জীবনের অংশ হয়ে ওঠার সুযোগ পান বলে উল্লেখ করেছে সাময়িকীটি।

অতিথিপরায়ণতায় ইউরোপের শীর্ষ শহর :

তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে আমস্টারডাম। এরপর চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে রয়েছে যথাক্রমে স্টকহোম ও ভ্যালেটা। এ নিয়ে ইউরোপের সেরা পাঁচটি অতিথিপরায়ণ শহরের তালিকা পূর্ণ হয়েছে।

এই ফলাফল কোনো আনুষ্ঠানিক আতিথেয়তা মূল্যায়নের ভিত্তিতে তৈরি হয়নি। বরং পাঠকদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে তালিকার শীর্ষ দুই স্থানেই পর্তুগালের শহর থাকাটা দেশটির জন্য আনন্দের ও গর্বের বিষয়।

এ স্বীকৃতি আরও একবার মনে করিয়ে দেয়, কোনো জায়গা ভ্রমণ শেষে পর্যটকদের মনে শুধু সেখানকার দর্শনীয় স্থানগুলোর স্মৃতি থাকে না, বরং সেখানকার মানুষ তাঁদের সঙ্গে কেমন আচরণ করেছেন, সেই অভিজ্ঞতাও দীর্ঘদিন মনে গেঁথে থাকে।

সূত্র : দ্য পর্তুগাল নিউজ

Home R3