পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে জীবিকার সন্ধানে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন লক্ষ্মীপুরের দুই সহোদর সজীব ও সুজন। তবে সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগেই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়ে কফিনবন্দি হয়ে দেশে ফিরতে হলো তাদের।
মঙ্গলবার সকাল ১০টায় লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার গনিপুর গ্রামের নিজ বাড়িসংলগ্ন কামারহাট মসজিদ মাঠে তাদের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয়। শেষ বিদায়ে আত্মীয়স্বজন, এলাকাবাসী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
নিহত সজীব ও সুজন একই উপজেলার গনিপুর গ্রামের খলিফার বাড়ির আব্দুল মালেকের ছেলে। বড় ভাই সজীব দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের দাম্মামে খেজুরের ব্যবসা করতেন। চলতি বছরের শুরুতে ছোট ভাই সুজনকে কাজের সহযোগিতার জন্য সেখানে নিয়ে যান তিনি।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুলাই দিবাগত রাতে খেজুরবোঝাই একটি পিকআপে করে বাগান থেকে ফেরার পথে তাদের গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়।
আইনি প্রক্রিয়া শেষে সোমবার রাতে তাদের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে শেষবারের মতো একনজর দেখতে শত শত মানুষ ভিড় করেন। মঙ্গলবারের জানাজায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।
নিহত সজীবের স্ত্রী ও দুই বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে। পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম দুই সদস্যকে হারিয়ে পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, সজীব ও সুজন ছিলেন ভদ্র, পরিশ্রমী ও সবার প্রিয় মানুষ। তাদের অকাল মৃত্যুতে শুধু একটি পরিবার নয়, শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো গনিপুর গ্রামে।
স্বজনরা মহান আল্লাহর কাছে দুই ভাইয়ের রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন।