২১শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ককরোচরা দিল্লি হাইকোর্টকেও বিপদে ফেলল; আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনা

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি-তে শিক্ষার্থী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের করা এক রিট আবেদনের জরুরি শুনানি নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এ ধরনের বিষয়ে বিচারবিভাগকে জড়ানো অনুচিত।

প্রধান বিচারপতি ডি কে উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়া-এর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ আবেদনকারীর প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “এই সব বিষয়ে আদালতকে টেনে আনবেন না।” জরুরি শুনানি না নিয়ে বিষয়টি আগামী বুধবার তালিকাভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে সোমবার শিক্ষার্থীদের এক বিক্ষোভে দিল্লি পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে অভিযোগ তুলে দ্রুত শুনানির আবেদন করা হয়। ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক সংগঠন কাকরোজ জনতা পার্টি-এর ডাকে এই মিছিলটি সংসদের উদ্দেশে যাত্রা করছিল। তাদের দাবি, সাম্প্রতিক নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান-এর পদত্যাগ।

প্রতিবাদের সূত্রপাত হয় জলবায়ু কর্মী সোনম ওয়াংচুক-কে অনশনরত অবস্থায় জোরপূর্বক হাসপাতালে নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। এর পরই যন্তর মন্তরে হাজারো শিক্ষার্থী জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে, যা দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বিক্ষোভকারীদের পাথর নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে। পুলিশের দাবি, সংঘর্ষে অন্তত ১৭৮ জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১১৮ জন পুলিশ সদস্য। অন্যদিকে, আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেছেন, বহু নিরপরাধ শিক্ষার্থী পুলিশি কঠোরতার শিকার হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত মে মাসে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি একটি মামলার শুনানিকালে কিছু বেকার তরুণকে রূপক অর্থে ‘কাকরোজ’ বা তেলাপোকার সাথে তুলনা করেছিলেন। সেই মন্তব্যকে কটাক্ষ হিসেবে গ্রহণ করেই তৈরি হয় এই ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন, যা পরবর্তীতে লাখ লাখ তরুণ ও চাকরিপ্রত্যাশীর দাবির প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়। শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে এই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে সংগঠনটি।

সূত্র: এনডিটিভি

Home R3