ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চলমান উত্তেজনা নিয়ে সিআইএসহ মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার একটি গোপন প্রতিবেদনের বরাতে নতুন তথ্য সামনে এসেছে, যেখানে মার্কিন সামরিক সক্ষমতা ও ইরানের প্রতিরক্ষা শক্তি নিয়ে ভিন্ন চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে জনসমক্ষে যে মূল্যায়ন করেছেন, বাস্তবে পরিস্থিতি তার বিপরীত। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ইরানের প্রায় ৭০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ এখনো অক্ষত রয়েছে এবং তাদের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির একটি অংশ এখনো সক্রিয় অবস্থায় আছে।
নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, হরমুজ প্রণালির আশপাশে থাকা বহু সামরিক ঘাঁটি ইরান পুনরায় সচল করেছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
অন্যদিকে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদী সামরিক অভিযান ও প্রতিরক্ষায় ব্যবহারের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারে চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ক্রুজ মিসাইল, টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ব্যবহারের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় মজুদ কমে আসছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য সংঘাত ও এর অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের বরাতে বলা হয়, দীর্ঘমেয়াদে এই সংঘাতের ব্যয় বিপুল পরিমাণে বাড়তে পারে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
এদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তাদের সামরিক অবস্থান দুর্বল হয়নি বরং আরও সুসংগঠিত হয়েছে। পাশাপাশি তারা যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমনে কিছু শর্তের কথা তুলে ধরেছে, যার মধ্যে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, সম্পদ ফেরত, এবং আঞ্চলিক সংঘাত বন্ধের দাবি।
যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন এসব শর্তকে প্রত্যাখ্যান করেছে বলে জানা গেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত এবং কোনো পক্ষই পূর্ণ সমাধানের দিকে এগোতে পারেনি।
এদিকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়লে তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। চীন ও অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তি পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে কূটনৈতিক উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অচলাবস্থার দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যেখানে সামরিক চাপের পাশাপাশি কূটনৈতিক সমাধানই একমাত্র কার্যকর পথ হতে পারে।