যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সদ্য স্বাক্ষরিত শান্তি চুক্তিতে লেবাননের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের শর্ত থাকলেও, দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযান ও রক্তক্ষয়ী সংঘাত অব্যাহত রেখেছে তেল আবিব। গত বুধবার (১৭ জুন) দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর পেতে রাখা বিস্ফোরক যন্ত্রের আঘাতে এক ইসরায়েলি সেনা নিহত ও অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, শান্তি চুক্তি ঘোষণার পর লেবাননে ইসরাইলের প্রথম প্রাণঘাতী ড্রোন হামলায় এক বেসামরিক গাড়িচালক নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর (আইডিএফ) বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, বুধবার বিকেল ৫টায় লিতানি নদীর তীরবর্তী এলাকায় টহল দেওয়ার সময় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ৩৬তম ডিভিশনের একদল সেনা হিজবুল্লাহর বিস্ফোরক হামলার মুখে পড়ে। এতে ২৯ বছর বয়সী মাস্টার সার্জেন্ট আলেকজান্ডার ফিলিন নিহত হন। বিস্ফোরণে সেনাবাহিনীর একজন অফিসারসহ ৩ জন গুরুতর এবং একজন নারী রিজার্ভ সেনাসহ ৪ জন সামান্য আহত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ২ মার্চ দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৩০ জনেরও বেশি ইসরায়েলি সেনা নিহত এবং ১ হাজার ৩৪৭ জন আহত হয়েছেন।
এদিকে, এই ঘটনার সমসাময়িক সময়ে দক্ষিণ লেবাননের অন্য একটি এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় এক গাড়িচালক নিহত এবং আরও দুজন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে রয়টার্স। ওয়াশিংটন-তেহরান ঐতিহাসিক সমঝোতা ঘোষণার পর লেবাননের মাটিতে এটাই প্রথম কোনো প্রাণঘাতী ইসরায়েলি হামলা।
চুক্তি লঙ্ঘন করে এই অভিযানের বিষয়ে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দক্ষিণ লেবাননে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখার বিষয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পর্দার আড়ালে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকার মনে করছে, সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলটি ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা কৌশলের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা তারা সহজে ছাড়তে নারাজ। সূত্র- আনাদুলু এজেন্সি