দীর্ঘ ১০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাত বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইলেকট্রনিকভাবে এতে সই করেন।
উভয় পক্ষ জানিয়েছে, চুক্তিটি ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে। এর আওতায় যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করার পথ তৈরি হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, সমঝোতা স্মারকটি চূড়ান্ত হয়েছে এবং দুই দেশের প্রেসিডেন্ট এতে ইলেকট্রনিক স্বাক্ষর করেছেন। তিনি বলেন, এখন চুক্তির বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণের সময়।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ঘোষণাকে দুই দেশের সামরিক তৎপরতা স্থগিতের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় সরাসরি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের প্রয়োজন থাকছে না।
তবে দুই দেশের আলোচক দল এখনও জেনেভায় যাওয়ার পরিকল্পনায় রয়েছে। মুখোমুখি বৈঠক হবে কি না, সে বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, চুক্তির আওতায় ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা সংগ্রহ থেকে বিরত থাকবে এবং সব ফ্রন্টে সংঘাত বন্ধ থাকবে।
এদিকে হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না দিলেও একটি মুখপাত্র চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে এ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হতে পারে।
আল জাজিরার প্রতিনিধি মাইক হান্না জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু রাজনৈতিক মহল মনে করছে, এই সমঝোতায় ইরানের প্রতি অতিরিক্ত নমনীয়তা দেখানো হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন অবশ্য এটিকে চূড়ান্ত চুক্তি নয়, বরং ভবিষ্যৎ আলোচনার ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরছে।
সূত্র: আল জাজিরা