পলাতক শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে হাতকড়া পরিয়ে বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি বলেছেন, বিগত বছরগুলোতে ভোটাধিকার হরণ, দুর্নীতি, লুটপাট, গুম-খুন এবং জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে নারী-শিশুসহ মানুষের রক্ত ঝরানোর সঙ্গে জড়িতদের বিচার বাংলাদেশের মাটিতেই হবে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চন্ডিপাশা সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে উপজেলা ও পৌর বিএনপি আয়োজিত জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, “আপনারা মানুষ হত্যা করে পালিয়েছেন, এখন শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুংকার দিচ্ছেন। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ আপনাদের সেই হুংকার বুঝে গেছে। কাজেই আপনাদের এখন দেশে আসতেই হবে। গোপনে নয়, এখনই চলে আসেন, প্রয়োজনে আমরা টিকিট দিয়ে দেব।”
তিনি বলেন, বিগত বছরগুলোতে যারা দেশের মানুষের ভোটাধিকার হরণ, দুর্নীতি, লুটপাট এবং গুম-খুনের সঙ্গে জড়িত ছিল, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ নারী-শিশুর রক্ত ঝরিয়েছে, তাদের বিচার বাংলাদেশের মাটিতেই হবে। পলাতকদের হাতকড়া পরিয়ে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের পর আওয়ামী লীগ দেশে বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা সৃষ্টি করেছিল। দেশে দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিল, তৈরি হয়েছিল অস্থিরতা ও বিভাজন। এমন পরিস্থিতিতে ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতা বন্দি জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান দেশের বিভাজনের রাজনীতির পরিবর্তে বহুদলীয় গণতন্ত্র ও জাতীয় ঐক্যের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। যতবার দেশ হুমকির মুখে পড়েছে, ততবার জিয়াউর রহমান ও তাঁর পরিবার জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা মোকাবিলা করেছেন। দেশের সংকটে জিয়া পরিবার বারবার জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং মানুষের অধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছে।
স্থানীয় নেতাকর্মী ও জনগণের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ আজ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। এই অগ্রযাত্রাকে যারা বাধাগ্রস্ত করতে চায়, তাদের যেকোনো ষড়যন্ত্র ও বিশৃঙ্খলা প্রতিহত করতে হবে। সন্দেহজনক কাউকে দেখলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে সোপর্দ করার আহ্বান জানান তিনি।