পর্তুগালে নতুন ১০টি পর্যটন প্রকল্পে ২৪ লাখ ইউরো সরকারি অর্থায়ন দেওয়া হয়েছে। দেশটির পর্যটন খাতকে আরও টেকসই ও বৈচিত্র্যময় করতে “ক্রেসের কম তুরিসমো” কর্মসূচির আওতায় এ অর্থ দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পগুলো দেশটির উত্তর, মধ্য, আলেনতেজো ও রিবাতেজো অঞ্চলে বাস্তবায়ন করা হবে। এসব প্রকল্পে মোট ৩৩ লাখ ইউরো বিনিয়োগ হবে। কোইমব্রায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রকল্পগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পর্যটন, বাণিজ্য ও সেবা বিষয়ক সচিব পেদ্রো মাশাদো।
শনিবার (১৮ জুলাই) পর্তুগালের ইংরেজি সংবাদমাধ্যম দ্য রেসিডেন্টের প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
পর্তুগালের পর্যটন সংস্থা ‘তুরিসমো দে পর্তুগাল’-এর সভাপতি কার্লোস আবাদে জানান, নতুন ১০টি প্রকল্পসহ এখন পর্যন্ত এই কর্মসূচির আওতায় ৩৩টি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এসব প্রকল্পে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ২ কোটি ১০ লাখ ইউরোর বেশি। এর মধ্যে ১ কোটি ইউরো দিয়েছে তুরিসমো দে পর্তুগাল।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৩ কোটি ইউরোর বাজেট নিয়ে এই কর্মসূচি শুরু হয়। এটি ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত চলবে অথবা বরাদ্দ শেষ হওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
নতুন অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ছয়টি মধ্যাঞ্চলে, তিনটি আলেনতেজো ও রিবাতেজো অঞ্চলে এবং একটি উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত।
এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে প্রাকৃতিক পর্যটন, সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল পর্যটন, ক্রীড়া পর্যটন, বৈজ্ঞানিক পর্যটন এবং প্রতিবন্ধীবান্ধব পর্যটন উন্নয়ন।
প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে পর্যটন স্থাপনা সংস্কার, ডিজিটাল সেবা উন্নয়ন, নতুন ভ্রমণ অভিজ্ঞতা তৈরি, ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং নতুন পর্যটন পথ তৈরি করা হবে।
কার্লোস আবাদে বলেন, এই কর্মসূচি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পর্যটন উন্নয়নে সহায়তা করছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং আরও টেকসই পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।
পেদ্রো মাশাদো বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো বর্তমান মেয়াদ শেষে পর্তুগালকে বিশ্বের শীর্ষ ১০ প্রতিযোগিতামূলক পর্যটন গন্তব্যের একটি করা। তিনি বলেন, পর্যটনের উন্নয়ন শুধু জনপ্রিয় এলাকাগুলোতে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের সব অঞ্চলে ছড়িয়ে দিতে হবে।
তিনি আরও জানান, ২০২৫ সালে পর্তুগালে প্রায় ৩ কোটি পর্যটক এসেছেন। ২০২৬ সালে এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে দেশটির পর্যটক সংখ্যা বছরে ২ থেকে ২.৫ শতাংশ হারে বাড়ছে। একই সময়ে পর্যটন আয় বাড়ছে ৪.৫ থেকে ৫.৫ শতাংশ হারে।