জার্মানিতে চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জের পদত্যাগ এবং দ্রুত আগাম নির্বাচনের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে পূর্ব জার্মানির স্যাক্সনি অঙ্গরাজ্য। স্থানীয় সময় শনিবার (৮ আগস্ট) প্লাউয়েন শহরের রাজপথে হাজার হাজার মানুষ অবস্থান নিয়ে সরকারের নীতি ও সামরিক খরচের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিবাদ জানান।
‘ইউনিটি ফর জার্মানি অথবা প্রজেক্ট মিলিয়ন’ নামক একটি সামাজিক উদ্যোগের ব্যানারে আয়োজিত এই বিক্ষোভে স্যাক্সনি পুলিশের হিসাব অনুযায়ী প্রায় ১০ হাজার আন্দোলনকারী অংশ নেন। এতে দেশটির ডানপন্থী ‘ফ্রি স্যাক্সনস’ দলের নেতাকর্মীরাও সমর্থন ও যোগ দিয়ে ‘মার্জকে বিদায় নিতেই হবে’ লেখা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।
সমাবেশে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে ১১ দফা দাবি পেশ করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—অবিলম্বে চ্যান্সেলরের পদত্যাগ ও আগাম নির্বাচন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম কমানো, সর্বজনীন ২৯ ইউরোর গণপরিবহন টিকিট চালুকরণ, স্বাস্থ্যসেবা নীতি সংস্কার এবং কঠোর অভিবাসন নীতি বাস্তবায়ন। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির মধ্যে জনগণের কল্যাণ না ভেবে সরকার অস্ত্রসজ্জা ও সামরিকীকরণের পেছনে অতিরিক্ত অর্থ অপচয় করছে।
সম্প্রতি চ্যান্সেলর মার্জ জার্মান বাহিনীকে “ইউরোপের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রথাগত সেনাবাহিনী” হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দেন এবং ২০২৯ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির ৩.৫ শতাংশে উন্নীত করতে সম্মত হন, যা নিয়ে দেশজুড়ে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অর্থনৈতিক স্থবিরতা, অভ্যন্তরীণ সংস্কার কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়া এবং ক্ষমতাসীন জোটের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে মার্জের জনপ্রিয়তা তলানিতে ঠেকেছে। সর্বশেষ ‘এআরডি-ডয়েচল্যান্ডট্রেন্ড’ জরিপ অনুযায়ী, ৮৪ শতাংশ জার্মান নাগরিক বর্তমান জোট সরকারের ওপর অসন্তুষ্ট এবং চ্যান্সেলর হিসেবে মার্জের জনসমর্থন নেমে এসেছে মাত্র ১৩ শতাংশে, যা ১৯৯৭ সালের পর কোনো জার্মান চ্যান্সেলরের জন্য সর্বনিম্ন।
এদিকে বিরোধী দল ‘অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি’-র জনপ্রিয়তা হু হু করে বাড়ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তীব্র গণঅসন্তোষের কারণে খোদ চ্যান্সেলরের নিজ দলেই এখন তাঁকে সরিয়ে নতুন নেতৃত্ব বা ‘চ্যান্সেলর পরিবর্তনের’ বিষয়টি প্রকাশ্যে আলোচনা হচ্ছে।