জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ভারতে ক্রমবর্ধমান ইসলামোফোবিয়া, ধর্মীয় বৈষম্য এবং উত্তর প্রদেশের সাহারানপুরে ১৫০ বছরের পুরোনো একটি মসজিদ ধ্বংসের বিষয়টি তুলে ধরেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে দেওয়া প্রায় ২৩ মিনিটের ভাষণে তিনি ভারতে ‘আরএসএস চালিত হিন্দুত্ববাদী ভাবধারার’ সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে কাশ্মীর ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।
বিশ্বজুড়ে ইসলামোফোবিয়ার উদ্বেগজনক বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে শাহবাজ শরিফ বলেন, মুসলিমরা ক্রমাগত ঘৃণাভিত্তিক বক্তব্য ও বৈষম্যের মুখোমুখি হচ্ছেন। মসজিদসহ বিভিন্ন উপাসনালয়ে হামলা এবং পবিত্র কোরআন অবমাননার ঘটনাও ঘটছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ভারতের পরিস্থিতি তুলে ধরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলতি মাসের শুরুতে উত্তর প্রদেশের সাহারানপুরে ১৫০ বছরের পুরোনো একটি ঐতিহ্যবাহী মসজিদ ভেঙে ফেলার ঘটনা এরই উদাহরণ। তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) ‘হিন্দুত্ববাদী আদর্শ’ ভারতে ধর্মীয় বিদ্বেষ উসকে দিচ্ছে। এর ফলে গণপিটুনি, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা, উপাসনালয়ে হামলা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর বিধিনিষেধ আরোপের মতো ঘটনা ঘটছে বলেও দাবি করেন তিনি।
শাহবাজ শরিফ বলেন, পৃথিবীতে ধর্মীয় বিদ্বেষের কোনো স্থান থাকা উচিত নয়। তিনি ধর্মের ভিত্তিতে যেকোনো ধরনের বৈষম্য ও হামলা বন্ধের আহ্বান জানান।
ভাষণে কাশ্মীর ইস্যুও তুলে ধরেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। ২০২৫ সালে ভারতের সঙ্গে সামরিক সংঘাতের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি দক্ষিণ এশিয়াকে বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘সময়োপযোগী মধ্যস্থতা’ ও ‘দূরদর্শী নেতৃত্বের’ প্রশংসা করেন। তার দাবি, ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ সে সময় দক্ষিণ এশিয়ার কোটি কোটি মানুষের জীবন রক্ষা করেছে।
শাহবাজ শরিফ বলেন, দক্ষিণ এশিয়া যেন ২০২৫ সালের মতো সংঘাতের দ্বারপ্রান্তে আর কখনো না পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে কাশ্মীর সংকটের একটি ন্যায্য ও ন্যায়সংগত সমাধান জরুরি।