ভারতের উত্তরাখণ্ডের হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ‘হিন্দু রক্ষা দল’-এর রাজ্য সভাপতি ললিত শর্মার ঘোষিত বিতর্কিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দারুল উলুম দেওবন্দ ও এর আশপাশে কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টনী গড়ে তোলে স্থানীয় প্রশাসন। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দিনভর সতর্ক অবস্থানে থাকলেও শেষ পর্যন্ত দেওবন্দের আশপাশেও আসেননি ললিত শর্মা। ফলে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই পুরো এলাকার পরিস্থিতি শান্ত ছিল।
জানা গেছে, ললিত শর্মা দারুল উলুম দেওবন্দে গঙ্গার পানি দিয়ে ‘অভিষেক’ করার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে দেওবন্দের প্রধান ফটকসহ সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। একই সঙ্গে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সার্বক্ষণিক নজরদারি বজায় রাখে।
এদিকে গত সোমবার গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ললিত শর্মার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেখা যায়, উত্তরাখণ্ড পুলিশ তাঁকে দেওবন্দের দিকে এগোতে বাধা দিচ্ছে। ভিডিওতে ললিত শর্মাকে বলতে শোনা যায়, তিনি আইন ও সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই দেওবন্দে ‘অভিষেকের’ জন্য আনা গঙ্গার পানি আপাতত তিনি নিজের কার্যালয়েই রেখে দিচ্ছেন।
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, রাজ্যের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট করার যেকোনো চেষ্টা কঠোর হাতে দমন করা হবে। কোনো ধরনের দুষ্কৃতকারীকে দারুল উলুম দেওবন্দসহ কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বা প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলেও আশ্বস্ত করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।
প্রশাসনের এমন কঠোর ও সতর্ক অবস্থানের কারণে দিনভর দারুল উলুম দেওবন্দের সার্বিক পরিবেশ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও শান্ত ছিল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এখনও পুলিশ ও গোয়েন্দা বাহিনীর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।