হরমুজ প্রণালিতে ওয়াশিংটনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে দক্ষিণ কোরীয় সেনা মোতায়েনের মার্কিন চাপ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করতে প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং প্রশাসনের প্রতি জোরালো দাবি জানিয়েছেন দেশটির সাধারণ নাগরিক ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা। এ দাবির পক্ষে অবস্থান জানিয়ে রাজধানী সিউলের রাজপথে বিক্ষোভও করেছেন তাঁরা।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সিউলের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত সেজং সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টসের সামনে বিভিন্ন নাগরিক, শ্রমিক, ধর্মীয় ও অধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা এক যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি জানায়, সংবাদ সম্মেলনে প্রতিনিধিরা ওয়াশিংটনকে তাদের সেনা মোতায়েনের দাবি অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে বলেন এবং সিউল প্রশাসনকে যে কোনো ধরনের সামরিক সংশ্লিষ্টতা সরাসরি বর্জনের আহ্বান জানান।
বিক্ষোভকারীরা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও কৌশলগত এই জলপথে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক সরঞ্জাম কিংবা সৈন্য পাঠানো হলে দেশটি সরাসরি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের পক্ষ হয়ে পড়বে। সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন দেশটির আইনপ্রণেতাদের মধ্যে পুনর্গঠন কোরিয়া পার্টির কিম হিউং ইয়ন এবং প্রগ্রেসিভ পার্টির ইউন জং ওহ।
সংবাদ সম্মেলন শেষে বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্টের কার্যালয় অভিমুখে একটি পদযাত্রা বের করেন। একই সঙ্গে আগামী শনিবার বড় পরিসরে সেনা মোতায়েনবিরোধী মিছিল আয়োজনের ঘোষণাও দেন তাঁরা। হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা তদারকির সম্ভাব্য উদ্যোগে সিউল অংশ নেবে কি না, এমন আলোচনার প্রেক্ষাপটেই এই তীব্র প্রতিবাদ শুরু হলো।
এর আগে মঙ্গলবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়নের অংশ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে তাদের একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল পাঠানো হয়েছে। তবে মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলেছে, এই মিশনের সঙ্গে কোনো সামরিক বাহিনী মোতায়েনের পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্তের সম্পর্ক নেই।
উল্লেখ্য, গত মার্চে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কৌশলগত এই নৌপথের নিরাপত্তায় সহায়তার জন্য দক্ষিণ কোরিয়াসহ পাঁচটি দেশকে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর সরাসরি আহ্বান জানিয়েছিলেন। অন্যদিকে সোমবার তেহরান সাফ সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছে, পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালির বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার কোনো সামরিক সংশ্লিষ্টতা দেখা দিলে তার পরিণতি অত্যন্ত গুরুতর হতে পারে।