পর্তুগালের রাজনীতিতে এবার নতুমোড়। চেগা দলের নেতা আন্দ্রে ভেনতুরা জানিয়েছেন, দলের অভ্যন্তরীণ বৈঠকের পর তারা সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
দেশটির বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুইস নেভেসের কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে এই প্রস্তাব আনা হচ্ছে।
ভেনতুরার দাবি, লুইস নেভেসের কর্মকাণ্ডের কারণে সরকার এখন ‘জটিল পরিস্থিতির’ মধ্যে পড়েছে। গত গ্রীষ্মের শুরু থেকেই নেভেসের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে সংবাদমাধ্যমে সমালোচনা চলছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে ভেনতুরা বারবার নেভেসের ‘সততার অভাব’ এবং তাঁর ‘ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে ওঠা অক্ষমতার’ কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, নেভেস নিজেই জানিয়েছেন, তিনি পদত্যাগ করবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত তাঁর নিজের। অন্য কেউ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না। নেভেসের এই বক্তব্যই ভেনতুরাকে আরও ক্ষুব্ধ করেছে বলে মনে হচ্ছে। তাঁর মতে, নেভেসের কর্তৃত্ব এখন প্রধানমন্ত্রীকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
ভেনতুরা বলেন, ‘অনেক বছর ধরে এমন একটি সংস্কৃতি ছিল, যেখানে বলা হতো চুপ থাকো এবং বিষয়টি এড়িয়ে যাও। কিন্তু চেগা তা করবে না।’
তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি পর্তুগালের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দুবার কথা বলেছেন। এসব আলোচনার পরই অনাস্থা প্রস্তাব আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্যান্য সংসদ সদস্যকে পাশে নিয়ে ভেনতুরা বলেন, লুইস নেভেসের পুলিশ বাহিনী পিজের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়কার কর্মকাণ্ড নিয়ে চেগার চাওয়া সংসদীয় তদন্ত বাতিল হচ্ছে না। তবে সেটি ‘পরবর্তী আইনসভা’ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। নতুন আইনসভা আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়ার কথা।
সরকার অনাস্থা ভোটে জিতবে নাকি হেরে যাবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। কারণ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইতোমধ্যে বলছেন, নেভেসের বর্তমান অবস্থান টেকসই নয় এবং তাঁর পদে থাকা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
ভেনতুরার ঘোষণার পর একটি টেলিভিশন আলোচনায় বিষয়টি নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যও করা হয়। আলোচনায় অংশ নেওয়া কয়েকজন বলেন, চেগা নেতা জাতীয় রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে ‘অগোছালো পরিস্থিতি’ এবং ‘জটিলতার’ কথা বলছেন। অথচ রাজনৈতিক অঙ্গনে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পেছনে ভেনতুরাকেই সবচেয়ে বেশি দায়ী করা যায়।
চেগার এই অনাস্থা প্রস্তাব বর্তমান ২৫তম সাংবিধানিক সরকারের বিরুদ্ধে প্রথম অনাস্থা প্রস্তাব। তবে প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টেনেগ্রোর নেতৃত্বাধীন পিএসডি/সিডিএস-পি-পি সরকারের বিরুদ্ধে এটি চেগার তৃতীয় অনাস্থা প্রস্তাব। পর্তুগালের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এটি হবে ৩৭তম অনাস্থা প্রস্তাব। এর আগে আনা ৩৫টি অনাস্থা প্রস্তাবই প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।
কোনো অনাস্থা প্রস্তাব পাস করতে হলে বর্তমানে দায়িত্বে থাকা সংসদ সদস্যদের মোট সংখ্যার অর্ধেকের বেশি অর্থাৎ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমর্থন প্রয়োজন। অনাস্থা প্রস্তাব পাস হলে সরকারকে পদত্যাগ করতে হয়।
আর যদি এই অনাস্থা প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যাত হয়, তাহলে একই আইনসভা চলাকালে প্রস্তাবটির সমর্থকেরা আরেকটি অনাস্থা প্রস্তাব আনতে পারবেন না। তবে নতুন আইনসভা শুরু হলে আবার সেই সুযোগ তৈরি হবে। নতুন আইনসভা শুরু হতে এখন আর দুই সপ্তাহেরও কম সময় বাকি।
সূত্র : দ্য রেসিডেন্ট