১৬ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ইন্দোনেশিয়ায় এক দিনের ব্যবধানে ফের শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাত

ইন্দোনেশিয়ায় এক দিনের ব্যবধানে আঘাত হেনেছে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প। ভোরে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভয়াবহ কম্পনের পর বিকেলে দেশটির উত্তর সুমাত্রা প্রদেশে ৬ দশমিক ৪ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। প্রথম ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৮ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকা থাকায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভোরে প্রথম শক্তিশালী ভূমিকম্পটি আঘাত হানে দেশটির পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশের ফ্লোরেস দ্বীপে। এতে সিক্কা ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়। পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশের গভর্নর ইমানুয়েল মেলকিয়াদেস লাকা লেনা জানান, ঘুমন্ত অবস্থায় ঘরবাড়ি ধসে পড়ে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ায় বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় জানা যায়, কম্পনের পরপরই শহরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষ প্রাণভয়ে ছোটাছুটি শুরু করে। স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, তাঁর চোখের সামনেই বন্দর এলাকার একটি ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়ে।

প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির হিসাবে জানানো হয়েছে, অন্তত ৫৪টি বসতবাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া পাঁচটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, তিনটি উপাসনালয়, ছয়টি সরকারি ভবন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও একটি গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে মাংগারাই অঞ্চলকে অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এদিকে, ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ভলকানো ডিসকভারি জানায়, স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৫৪ মিনিটে উত্তর সুমাত্রার পেমাতাংসিয়ান্তার শহরের কাছে ৬ দশমিক ৪ মাত্রার দ্বিতীয় কম্পনটি আঘাত হানে। ভূ-পৃষ্ঠের ১৬৩ কিলোমিটার গভীরে এর উৎপত্তিস্থল ছিল। দ্বিতীয় এই ভূমিকম্পে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া না গেলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র নিরূপণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।

Home R3