১১ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ইউরোপজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে যৌনরোগ

ইউরোপজুড়ে গনোরিয়া, সিফিলিস এবং ক্ল্যামাইডিয়ার মতো ব্যাকটেরিয়াজনিত যৌনবাহিত রোগ বা এসটিআই আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউরোপীয় রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র (ইসিডিসি)-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে বলে দ্য ইকোনোমিস্ট জানিয়েছে।

বিগত এক দশকে ইউরোপে এসব সংক্রামক রোগ রেকর্ড গড়েছে, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো চিকিৎসা না করালে এসব রোগ থেকে ক্রনিক ব্যথা, বন্ধ্যাত্ব, এমনকি স্নায়ু ও হৃদরোগের মতো মারাত্মক প্রাণঘাতী জটিলতা দেখা দিতে পারে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সংক্রমণ বৃদ্ধির পেছনে একাধিক সামাজিক ও স্বাস্থ্যগত কারণ কাজ করছে। এর মধ্যে মানুষের পরিবর্তিত জীবনযাত্রা, সামাজিক মেলামেশার ধরন বদলে যাওয়া এবং ডেটিং অ্যাপগুলোর ব্যাপক ব্যবহার অন্যতম। এছাড়া এইচআইভি নিয়ে আগের মতো ভয় না থাকা ও আধুনিক চিকিৎসায় এর সংক্রমণ রোধ সম্ভব হওয়ায় অনেকে অরক্ষিত মিলনে সাহসী হয়ে উঠছেন, যা অন্যান্য যৌনরোগ ছড়ানোর পথ প্রশস্ত করছে।

স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাও এই সংকটকে ত্বরান্বিত করেছে। ইউরোপের অনেক দেশেই যৌনরোগের পরীক্ষা ও প্রতিরোধমূলক বাজেটে কাটছাঁট করা হয়েছে। অনেক স্থানে পরীক্ষার জন্য পকেট থেকে অতিরিক্ত অর্থ খরচ করতে হয়, যা সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে বড় বাধা। করোনা মহামারীর পর স্বাস্থ্যসেবায় জটিলতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

পূর্বে মূলত সমকামী বা উভকামী পুরুষদের মধ্যে এসব রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি থাকলেও বর্তমানে বিষমকামী (হেটারোসেক্সুয়াল) পুরুষ ও নারীদের মধ্যেও তা দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে প্রজননক্ষম নারীদের মধ্যে সিফিলিস বাড়ায় গর্ভজাত শিশুর মধ্যে জন্মগত সিফিলিস সংক্রমণের হার প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। গর্ভাবস্থায় নিয়মিত স্ক্রিনিং ও সচেতনতার অভাবে নবজাতকরাও এখন মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইউরোপের দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এর মধ্যে রয়েছে যৌনরোগ পরীক্ষার সুযোগ সহজ ও সাশ্রয়ী করা, গর্ভকালীন বাধ্যতামূলক স্ক্রিনিং এবং দ্রুত চিকিৎসার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া রোধ করা। সময়মতো সঠিক পদক্ষেপ না নিলে এটি বড় ধরনের মানবিক সংকটে রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

সূত্র: দ্য ইকোনোমিস্ট

Home R3