৩০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হলেও দেশে ফিরতে চান হাসিনা

জীবনের ঝুঁকি নিয়েও বাংলাদেশে ফিরতে চান ভারতের অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি জানিয়েছেন, সম্ভাব্য গ্রেপ্তার, কারাবাস কিংবা প্রাণহানির আশঙ্কা থাকলেও দেশের মানুষের ডাকেই তিনি ফিরতে আগ্রহী।

বার্তা সংস্থা এএফপিকে ই-মেইলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, “আমাকে হত্যা করা হতে পারে, গ্রেপ্তার করা হতে পারে, কারাগারেও পাঠানো হতে পারে। আমি আমার পরিণতি সম্পর্কে সচেতন। তারপরও দেশে ফিরতে চাই, কারণ আমার দেশের মানুষ আমাকে ডাকছে।”

গত নভেম্বরে ঢাকার একটি আদালত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেন। তবে এই রায়কে তিনি রাজনৈতিক প্রতিশোধ বলে উল্লেখ করেন। এদিকে বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যর্পণের আবেদন করেছে। ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি এখনও পর্যালোচনায় রয়েছে।

শেখ হাসিনা দাবি করেন, দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত তার ব্যক্তিগত এবং এর সঙ্গে প্রত্যর্পণ ইস্যুর কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, “আমি ভারতে সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে অবস্থান করছি। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আমার সঙ্গে প্রত্যর্পণ নিয়ে কোনো আলোচনা করেনি।”

নিজ সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, বিচারব্যবস্থায় প্রভাব বিস্তার, বিরোধীদের হত্যা এবং একতরফা নির্বাচনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, এসব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

ছাত্র আন্দোলন দমনে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের অভিযোগও অস্বীকার করে শেখ হাসিনা বলেন, সরকার সর্বোচ্চ ধৈর্য দেখিয়েছে এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা করেছে। তার ভাষায়, এটি কেবল সাধারণ ছাত্র আন্দোলন ছিল না; বরং সংগঠিত সহিংসতা ও সরকার উৎখাতের পরিকল্পনার অংশ ছিল।

আন্দোলনে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানালেও তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাননি। তিনি বলেন, “যারা তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, প্রতিটি পরিবারের প্রতি আমার সহানুভূতি রয়েছে।”

রাষ্ট্র পরিচালনায় নেওয়া সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুশোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “রাষ্ট্র পরিচালনার সিদ্ধান্ত একজন ব্যক্তির একার নয়। পুরো প্রেক্ষাপট বিবেচনা না করে বিচ্ছিন্নভাবে বিচার করা ঠিক নয়।”

সূত্র: এনডিটিভি

Home R3