যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের রিচার্ডসনে একটি ব্যাপটিস্ট গির্জা কিনে সেটিকে মসজিদ, ইসলামিক স্কুল ও সেমিনারিতে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে মুসলিম সংগঠন সালাহউদ্দীন ফিউচার একাডেমি (এসএএফএ)। আইনি জটিলতা কাটিয়ে ওঠার পর প্রতিষ্ঠানটি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এগোচ্ছে।
এসএএফএ একটি কে-১২ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তাদের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য হলো সাধারণ শিক্ষার সঙ্গে কুরআন ও হাদিসভিত্তিক ইসলামিক শিক্ষার সমন্বয় ঘটানো।
জানা গেছে, এই প্রকল্পে এসএএফএ-এর পাশাপাশি অথেনটিক ইলম মিশন (এআইএম) যৌথভাবে ‘দাওয়াহ একাডেমি অ্যান্ড সেমিনারি’ প্রতিষ্ঠা করবে। এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম জাতীয় আবাসিক দাওয়াহ সেমিনারি হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে ইসলামিক স্টাডিজে স্নাতক ডিগ্রিসহ বিভিন্ন কোর্স চালু করা হবে।
সংস্থাটির এক বিবৃতিতে বলা হয়, তারা এমন নেতৃত্ব গড়ে তুলতে চায় যারা প্রজ্ঞার সঙ্গে ইসলামের প্রতিনিধিত্ব করতে পারবে এবং সত্যের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিতে সক্ষম হবে।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে এআইএম-এর এক বক্তা বলেন, যে গির্জাটি একসময় মুসলিমদের খ্রিষ্টধর্মে ধর্মান্তরের প্রশিক্ষণ দিত, সেটিই এখন একটি ইসলামিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হচ্ছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ডালাস এক্সপ্রেস’-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সম্পত্তি হস্তান্তর নিয়ে গির্জা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করে এসএএফএ। অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের অক্টোবরে ৩.৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে সম্পত্তি কেনার জন্য চুক্তি স্বাক্ষর করা হয় এবং ৩৮ হাজার ডলার অগ্রিম পরিশোধ করা হয়। তবে পরবর্তীতে গির্জা কর্তৃপক্ষ দাবি করে, তাদের যাজক ভুল বুঝে চুক্তিতে সই করেছিলেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে চুক্তি কার্যকর ও ক্ষতিপূরণ দাবিতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। পরে এপ্রিল মাসে কোনো চূড়ান্ত রায় ছাড়াই মামলাটি নিষ্পত্তি হলে সম্পত্তি ক্রয়ের পথ সুগম হয়।
এ ঘটনা এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন টেক্সাসে ইসলামের বিস্তার নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, টেক্সাসের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২ শতাংশ মুসলিম হলেও, জনসংখ্যার দিক থেকে এটি যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম বৃহত্তম মুসলিম অধ্যুষিত অঙ্গরাজ্য।
বিশ্বব্যাপী ইসলাম বর্তমানে দ্রুত বর্ধনশীল ধর্মগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সূত্র: দ্য ডালাস এক্সপ্রেস