১৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

হরমুজে উত্তেজনার মধ্যেই ওমান উপকূলে ডুবলো ভারতীয় জাহাজ

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক উত্তেজনার মধ্যেই ওমান উপকূলে ভারতের পতাকাবাহী একটি মালবাহী জাহাজ ডুবে গেছে। তবে জাহাজে থাকা ১৪ জন নাবিককে জীবিত ও নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।

বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির বরাত দিয়ে জানা গেছে, ওমানের রাস আল হাদ্দ উপকূল থেকে প্রায় ৮০ নটিক্যাল মাইল দূরে ‘এমএসভি বিরাট ১’ নামের জাহাজটি ডুবে যায়। রোববার (১৪ জুন) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নাবিকদের উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

ওমানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এক বার্তায় জানায়, জাহাজটির সকল নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করে ‘জাবাল আলি ৯’ নামের আরেকটি জাহাজে স্থানান্তর করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া নাবিকরা বর্তমানে ভারতের মুম্বাইয়ের পথে রয়েছেন।

দূতাবাস আরও জানায়, মাঝসমুদ্রে জাহাজটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়ার পর নাবিকরা লাইফ র‌্যাফটে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে ওমানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং আশপাশে থাকা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর সহায়তায় দ্রুত অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়।

ভারতের ‘ডিরেক্টরেট জেনারেল অব শিপিং’ জাহাজটি ডুবে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, কাঠের তৈরি এই কার্গো ভেসেলটি ভারতের অধীনে নিবন্ধিত ছিল।

এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে ওমান উপকূলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। কয়েক দিন আগে একই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক হামলায় ভারতীয় নাবিক হতাহতের ঘটনা ঘটে, যা নিয়ে দিল্লি ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে।

ওমান উপকূলে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার প্রতিবাদে গত শুক্রবার এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিককে তলব করে ভারত সরকার।

এর আগে, ভারত সরকার জানিয়েছিল যে, ওমান উপকূলে একটি জাহাজ লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় অন্তত তিনজন ভারতীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন।

অন্যদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানের তেল পরিবহনের অভিযোগে গত সপ্তাহে গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী ‘এম/টি জলভীর’ এবং পালাউয়ের পতাকাবাহী ট্যাংকার ‘এম/টি মারিভেক্স’ ও ‘এম/টি সেট্টেবেলো’ নামের তিনটি জাহাজকে সমুদ্রে অচল করে দেওয়া হয়েছে।

এই সামরিক অভিযানের পরপরই ওমান সাগর অঞ্চলে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।

Home R3