২২শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

স্পেনে অভিবাসী বৈধকরণে অভূতপূর্ব সাড়া, আবেদন প্রায় ৯ লাখ

স্পেনের বিশেষ অভিবাসী বৈধকরণ কর্মসূচিতে প্রায় ৯ লাখ আবেদন জমা পড়েছে, যা সরকারের প্রাথমিক প্রত্যাশার প্রায় দ্বিগুণ। দেশটির মাইগ্রেশন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কর্মসূচি চালুর সময় প্রায় ৫ লাখ আবেদন পাওয়ার ধারণা করা হয়েছিল। আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ৩০ জুন।

সরকারি গেজেটে প্রকাশিত ‘রয়্যাল ডিক্রি ৩১৬/২০২৬’-এর আওতায় যোগ্য অনথিভুক্ত অভিবাসীরা এক বছরের নবায়নযোগ্য বসবাস ও কাজের অনুমতি পাচ্ছেন। এ সুবিধা পেতে আবেদনকারীদের ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারির আগে স্পেনে অবস্থানের প্রমাণ, অন্তত পাঁচ মাসের ধারাবাহিক বসবাস, অপরাধমূলক রেকর্ড না থাকা এবং নির্ধারিত ফি পরিশোধের শর্ত পূরণ করতে হচ্ছে।

নতুন ডিক্রিতে আন্তর্জাতিক সুরক্ষার আবেদনকারীদের জন্য বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ‘আরাইগো এক্সট্রাওর্ডিনারিও’ বা বিশেষ সামাজিক সংযোগের ভিত্তিতে বসবাসের সুযোগ চালু করা হয়েছে, যা চাকরি, পারিবারিক সম্পর্ক বা ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির ভিত্তিতে পাওয়া যেতে পারে।

নিয়ম অনুযায়ী, আবেদন প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আবেদনকারীরা কাজ শুরু করতে পারবেন। এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত মাদ্রিদে প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার অস্থায়ী ওয়ার্ক পারমিট দেওয়া হয়েছে, যা মোট আবেদনের প্রায় ৪০ শতাংশ।

স্পেনের অভিবাসন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী পিলার ক্যানসেলা জানিয়েছেন, এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে সরকার সর্বোচ্চ ১০ লাখ আবেদন প্রক্রিয়া করার সক্ষমতা রাখে। তবে আবেদন সংখ্যা অনুমোদনের তুলনায় বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শরণার্থী সহায়তা সংস্থা সিয়ার (CEAR) মনে করছে, নির্ধারিত সময়সীমার আগে আবেদন সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। সংস্থাটি দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী বৈধকরণ নীতির দাবি জানিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এই উদ্যোগকে “ন্যায়বিচার ও প্রয়োজনীয়তা” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, ইতোমধ্যে স্পেনে বসবাস ও কাজ করা অভিবাসীদের আইনি কাঠামোর মধ্যে আনা অর্থনীতি ও সমাজ—উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সরকার বলছে, বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধি, শ্রমঘাটতি এবং আতিথেয়তা, কৃষি, নির্মাণ ও সেবা খাতে কর্মীর চাহিদা পূরণের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তবে উদ্যোগটি নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। সমর্থকদের মতে, এটি শ্রমবাজারকে শক্তিশালী করবে এবং কর আদায় বাড়াবে। অন্যদিকে সমালোচকদের আশঙ্কা, এতে ভবিষ্যতে অনিয়মিত অভিবাসন আরও উৎসাহিত হতে পারে।

উল্লেখ্য, স্পেন সর্বশেষ ২০০৫ সালে বড় আকারে অভিবাসী বৈধকরণ কর্মসূচি চালু করেছিল। দুই দশক পর নতুন এ উদ্যোগের প্রভাব নিয়ে এখন দেশজুড়ে আলোচনা চলছে।

Home R3