১লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মক্কা জোটে নতুন সদস্যের আলোচনায় এগিয়ে বাংলাদেশ

ন্যাটোর আদলে যৌথ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের ত্রিপক্ষীয় সামরিক জোট ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোট’ (Mecca Defence Alliance)। সোমবার (৩১ আগস্ট) ইস্তাম্বুলে তিন দেশের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং সেনাপ্রধানদের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে জোটের সাংগঠনিক কাঠামো চূড়ান্ত ও রিয়াদে স্থায়ী সচিবালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। জোটের প্রথম মহাসচিব হবেন পাকিস্তানের একজন প্রতিনিধি।

এর আগে গত ৭ আগস্ট পবিত্র মক্কায় এই ঐতিহাসিক চুক্তি সই হয়। চুক্তির মূল নীতি অনুযায়ী—কোনো এক সদস্য দেশের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা তিন দেশের ওপরই হামলা হিসেবে গণ্য হবে এবং বাকিরা আক্রান্ত দেশকে সামরিক ও কৌশলগত সহায়তা দিতে বাধ্য থাকবে। তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানান, আন্তর্জাতিক আইনের ওপর ভিত্তি করে গঠিত এই জোট অন্যান্য মুসলিম দেশের জন্যও উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

জোটের সম্প্রসারণে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে সামনে এসেছে বাংলাদেশের নাম। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর সম্প্রতি জানান, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে ঢাকা এই জোটে যোগ দিতে নীতিগত আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ বিষয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি ইতিবাচক সাড়া দিয়ে বলেছেন, বাংলাদেশ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব এলে প্রতিষ্ঠাতা তিন দেশের যৌথ আলোচনার মাধ্যমে তা বিবেচনা করা হবে।

বাংলাদেশ ছাড়াও জোটে যোগ দেওয়ার দৌড়ে রয়েছে মিসর এবং পারস্য উপসাগরীয় দেশ কাতার, কুয়েত ও বাহরাইন। বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলো নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর একক নির্ভরতা কমিয়ে অংশীদারিত্বে বৈচিত্র্য আনতে এই জোটে যোগ দিতে পারে। তবে কৌশলগত ঝুঁকি ও প্রতিষ্ঠাতা দেশগুলোর মধ্যকার বোঝাপড়া চূড়ান্ত হতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকেরা।

সূত্র: আল জাজিরা, আনাদোলু

Home R3