২৩শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন

চলতি বছরে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বৃদ্ধির জোরালো আভাস ও শক্তিশালী ডলারের চাপে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন দেখা গেছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান শান্তি আলোচনার গতিপ্রকৃতির ওপর গভীর নজর রাখছেন। খবর রয়টার্সের।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ড বা প্রতি আউন্স (৩১.১০৩ গ্রাম) স্পট স্বর্ণের দাম ০.৭ শতাংশ কমে ৪ হাজার ১৬২.৬০ মার্কিন ডলারে নেমে এসেছে। দিনের শুরুর দিকে এই পতন প্রায় ১ শতাংশ ছুঁয়েছিল। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে আগামী আগস্ট মাসে সরবরাহের চুক্তি করা স্বর্ণের দাম ০.৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৮০.৫০ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে।

কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বাজারের এই পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে বলেন, চলতি সপ্তাহে তেলের দাম কিছুটা কমে আসায় স্বর্ণের বাজার সামান্য ঊর্ধ্বমুখী ছিল। তবে শক্তিশালী মার্কিন ডলারের কারণে সেটি আর টিকল না। ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন প্রত্যাশায় ডলারের দাম ক্রমাগত বাড়ছে, যা স্বর্ণের দাম কমিয়ে দিয়েছে।

গত সপ্তাহের শেষ দিকে মার্কিন ডলারের দর এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছিল। আজ মঙ্গলবারও তা ধরে রেখেছে। ডলার শক্তিশালী হওয়ার কারণে অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারী ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ কেনা বেশ ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। সাধারণত স্বর্ণকে মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে একটি নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও সুদের হার উচ্চ থাকলে বিনিয়োগকারীদের কাছে স্বর্ণের আকর্ষণ অনেকটাই কমে যায়।

এদিকে ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির প্রাথমিক আলোচনা শেষে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের ওপর থেকে ৬০ দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই চুক্তির আওতায় লেবাননেও যুদ্ধ পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সুইজারল্যান্ডে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এই আলোচনাকে একটি চূড়ান্ত শান্তি চুক্তির জন্য ‘ভালো ভিত্তি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। যদিও ইরান তাদের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।

শিকাগো ফেডের প্রেসিডেন্ট অস্টিন গুলসবি জানিয়েছেন, শ্রমবাজার স্থিতিশীল থাকায় তাদের মূল নজর এখন মুদ্রাস্ফীতির দিকে। উচ্চ শুল্কের প্রভাব কমে এলে এবং মধ্যপ্রাচ্য সংকটের সমাধান হলে মুদ্রাস্ফীতি কতটা কমবে, তা তারা খতিয়ে দেখছেন।

সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বর মাসে ফেডের সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা এখন ৮৮ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে, যা গত সপ্তাহের সভার আগে ছিল মাত্র ৬১ শতাংশ। চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে মার্কিন পার্সোনাল কনজাম্পশন এক্সপেন্ডিচার বা ব্যক্তিগত ভোগ ব্যয় সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ পাবে, যা থেকে ফেডের পরবর্তী আর্থিক নীতি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা মিলবে।

স্বর্ণের পাশাপাশি আজ বিশ্ববাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট সিলভার বা রূপার দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৪ দশমিক ০২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া প্ল্যাটিনামের দাম ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬৫১ দশমিক ৭৯ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ কমে ১ হাজার ২৫৬ দশমিক ২৭ ডলারে নেমে এসেছে।