ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সামনে নতুন সরকার গঠনের আর কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়াইর লাপিদ। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি এ মন্তব্য করেন।
ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম কান জানিয়েছে, ভোট গণনা শেষে ১২০ সদস্যের পার্লামেন্ট নেসেটে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ জোট ৫৩টি আসন পেয়েছে। বিরোধী ‘চেঞ্জ’ জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। অন্যদিকে, আরব দলগুলো পেয়েছে ১৯টি আসন।
সরকার গঠনের জন্য নেসেটে প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন। তবে প্রধান দুই জোটের কোনোটিই এককভাবে সেই সংখ্যায় পৌঁছাতে পারেনি। যাচাই-বাছাই শেষে আগামী ৪ নভেম্বর চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হেরজগের কাছে হস্তান্তরের কথা রয়েছে।
নেতানিয়াহুর জোটের আসনসংখ্যার দিকে ইঙ্গিত করে শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লাপিদ লিখেছেন, ‘এটুকুই তার সম্বল। তিনি যা-ই চেষ্টা করুন না কেন, তার সামনে সরকার গঠনের কোনো উপায় নেই।’
বিদায়ী নেসেটে নেতানিয়াহুর জোটের ৬৮টি আসন ছিল উল্লেখ করে বর্তমান ফলাফলকে তাঁর জন্য বড় বিপর্যয় হিসেবে আখ্যায়িত করেন লাপিদ।
নির্বাচনে ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ ভোটার উপস্থিতির কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর দাবি, ১৯৯৯ সালের পর এটি সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি। বিরোধী জোটের অর্জনকে সরাসরি বড় ব্যবধানের জয় না বলে ‘পয়েন্টের ভিত্তিতে জয়’ হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।
তবে সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকার বিষয়টিও স্বীকার করেছেন লাপিদ। শুক্রবারের পোস্টে তিনি বলেন, ‘এখন সবচেয়ে কঠিন কাজটি সামনে—সরকার গঠনের চেষ্টা করা।’
নির্বাচনী প্রচারণা ও সরকার গঠনের আলোচনার পার্থক্য তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, সরকার গঠনের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন। এটি ক্যামেরার আড়ালে, ছোট কোনো কক্ষে এবং ধীরগতিতে সম্পন্ন হয়। এ প্রক্রিয়া কঠিন হবে উল্লেখ করে সমর্থকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি। তবে সরকার গঠনের বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারেননি লাপিদ।
ইসরায়েলি দৈনিক ইয়েদিওথ আহরোনথের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার কট্টর ডানপন্থী দল জিউইশ পাওয়ারের নেতা ইতামার বেন-গভির নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে ডানপন্থী সরকার টিকিয়ে রাখার সম্ভাব্য উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।
জিউইশ পাওয়ার জানিয়েছে, আরব দলগুলোর সমর্থনে একটি ‘বামপন্থী সরকার’ গঠন ঠেকানোর বিষয়ে তাঁদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
অন্যদিকে, ‘ডেমোক্র্যাটস’ দলের নেতা ইয়ার গোলান ‘চেঞ্জ’ জোটের নেতাদের আরব দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। বিকল্প সরকার গঠনের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার তিনি ‘ইউনাইটেড আরব লিস্ট’ বা রা’আম পার্টির নেতা মানসুর আব্বাসের সঙ্গে বৈঠক করেন।
এর আগে গোলান ভবিষ্যৎ সরকারে রা’আমকে অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। তবে ‘ইসরায়েল বেইতেইনু’ দলের নেতা আভিগদোর লিবারম্যান আরব দলগুলোর অংশগ্রহণে সরকার গঠনের বিরোধিতা করেছেন।
বর্তমান আসনবিন্যাস অনুযায়ী, ‘চেঞ্জ’ জোট ও আরব দলগুলোর সম্মিলিত আসনসংখ্যা ৬৭। অর্থাৎ, তারা একসঙ্গে সরকার গঠনের উদ্যোগ নিলে পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের সুযোগ রয়েছে।
তবে আরব দলগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে ‘চেঞ্জ’ জোটের অংশ নয়। তাদের সঙ্গে সহযোগিতা করা নিয়ে বিরোধী নেতাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকায় নেতানিয়াহুকে বাদ দিয়ে বিকল্প সরকার গঠনের প্রচেষ্টা এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।