যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের প্রভাব এখনো কাটেনি বিশ্ব জ্বালানি বাজারে। যুদ্ধ শুরুর আট মাস পেরিয়ে গেলেও স্বাভাবিক হয়নি তেল সরবরাহ। বেড়েছে অপরিশোধিত তেল, ডিজেল, পেট্রোল ও উড়োজাহাজের জ্বালানির দাম।
যুদ্ধ শুরুর আগে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল ৭২ থেকে ৭৩ ডলার। ২ নভেম্বর ২০২৬-এ তা বেড়ে প্রায় ১১২ ডলারে পৌঁছেছে। অর্থাৎ আট মাসে দাম বেড়েছে প্রায় ৫৪ শতাংশ। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ডব্লিউটিআই ক্রুডের দামও বেড়ে ১০২ দশমিক ৫৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
তবে সবচেয়ে বেশি চাপ তৈরি হয়েছে পরিশোধিত জ্বালানির বাজারে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সিঙ্গাপুরের পাইকারি বাজারে ডিজেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তা প্রায় ২২০ ডলারে পৌঁছেছিল।
বিশ্ব জ্বালানি বাজারে সংকটের অন্যতম কারণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও গ্যাস পরিবহনে বিঘ্ন। যুদ্ধ শুরুর পর গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ কমে যায়। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে পরিশোধিত জ্বালানির রপ্তানি এখনো যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফেরেনি।
২ নভেম্বর ইরান ও কাতারের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনার খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে। তবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ও তেল রপ্তানি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় সংকট কাটার লক্ষণ এখনো স্পষ্ট নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের (ইআইএ) পূর্বাভাস অনুযায়ী, সরবরাহ সংকট ও জ্বালানি মজুত কমে যাওয়ায় ২০২৭ সালেও ডিজেলের বাজারে চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)