যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বিরোধী নীতির বিরুদ্ধে আদালতে আইনি লড়াই শুরু করেছে দেশটির চারটি শীর্ষস্থানীয় মানবাধিকার সংস্থা। নিউ ইয়র্কের একটি আদালতে দায়ের করা মামলায় ট্রাম্প প্রশাসনের জারি করা নিষেধাজ্ঞাকে সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক বলে দাবি করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মামলাকারী সংস্থাগুলো হলো—হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, ওপেন সোসাইটি ইনস্টিটিউট, আমেরিকান ফ্রেন্ডস সার্ভিস কমিটি এবং সেন্টার ফর কনস্টিটিউশনাল রাইটস। সংস্থাগুলোর অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা বিশ্বজুড়ে গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সঙ্গে স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না।
বাদীপক্ষের আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, প্রশাসনের এই নিষেধাজ্ঞা প্রেসিডেন্টের এখতিয়ারের সীমা লঙ্ঘন করেছে। একই সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক ও মার্কিন আইনের পাশাপাশি বাক ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল—কোনো দেশই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সদস্য নয়। তা সত্ত্বেও মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অপরাধের মামলার পথ বেছে নেওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রসিকিউটর ও বিচারকদের ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর আগে ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন এবং আদালতের তিনজন বিচারকও পৃথকভাবে এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বিরোধী অবস্থানের সূত্রপাত তাঁর প্রথম মেয়াদে। ২০২০ সালে তিনি একই ধরনের নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন, যা পরবর্তীতে আদালতের রায়ে স্থগিত হয় এবং ২০২১ সালে বাইডেন প্রশাসন তা বাতিল করে দেয়। তবে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর বর্তমান প্রশাসন দ্য হেগভিত্তিক এই আন্তর্জাতিক আদালতকে দুর্বল করতে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে এবং অন্যান্য বন্ধু রাষ্ট্রগুলোকেও এই আদালত ছেড়ে বেরিয়ে আসতে উৎসাহিত করছে।
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, আন্তর্জাতিক এই আদালত দেশের সার্বভৌমত্ব ও কর্মীদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি। তবে গত জুলাই মাসে ট্রাম্প নিজেই স্বীকার করেছিলেন যে, এই প্রচারণার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের আন্তর্জাতিক আইনি সুরক্ষা দেওয়া।
সূত্র: রয়টার্স।