মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইরানের সঙ্গে কোনো যুদ্ধে জড়াতে চান না, বরং আলোচনার মাধ্যমেই চলমান সংকটের সমাধান করতে আগ্রহী।
তিনি বলেন, আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না। ইরানের সঙ্গে আর যুদ্ধ নয়; আলোচনার মাধ্যমেই সংকট সমাধান হবে।
সোমবার (৩ আগস্ট) থেকে ইরানের সঙ্গে নতুন দফার আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে। বড় ধরনের সামরিক হামলার পূর্ণ প্রস্তুতি থাকলেও সম্ভাব্য সমঝোতার কথা মাথায় রেখে তা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
রবিবার (২ আগস্ট) এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, ইরান মার্কিন হামলার ব্যাপকতা সম্পর্কে অবগত ছিল। তবে বর্তমানে তারা আলোচনার পথেই এগোচ্ছেন। এর আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা তাকে হামলা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে; কারণ সমঝোতার মৌলিক কাঠামো নিয়ে ইতোমধ্যে একটি ঐকমত্য তৈরি হয়েছে।
ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কাতারের মতো মিত্র দেশগুলো তাকে হামলা না চালানোর আহ্বান জানিয়েছে। তাদের বিশ্বাস, হরমুজ প্রণালি ও পারমাণবিক ইস্যুতে একটি চুক্তি হতে যাচ্ছে। তবে তেহরানের সঙ্গে কবে নাগাদ এই চুক্তি হবে, তার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাতে চাননি তিনি। পরিকল্পিত এই হামলাটি হলে তা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় সামরিক হামলা হতো বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই ঘোষণার পর সোমবার বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। এশিয়ার লেনদেনে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৩ দশমিক ৯৮ ডলারে এবং যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের দাম ৪ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ৮০ দশমিক ৭৪ ডলারে নেমে আসে। মূলত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কায় তেলের বাজারে এই অস্থিরতা বিরাজ করছিল।
এদিকে, ট্রাম্পের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরানের আধা-সরকারি বার্তাসংস্থা মেহর। সংস্থাটি জানিয়েছে, সামরিক পদক্ষেপ স্থগিত রাখতে তেহরান কখনোই যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করেনি এবং ট্রাম্পের এ দাবি ‘নতুন আরেকটি মিথ্যা ছাড়া আর কিছুই নয়। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের মধ্যস্থতায় চলা আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া, ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাজিদ ইবন আল-রেজা যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো হুমকিকে ‘বাস্তব ও বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করে তেহরানের পূর্ণ প্রস্তুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
সূত্র: বিবিসি